১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

জমি সঙ্কটে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ● দেশে জমি সঙ্কটে সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এটি ধর্মীয় খাতে এককভাবে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রকল্পের বরাদ্দ ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তায় ইসলামি ফাউন্ডেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির প্রাপ্তির বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জমি চেয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সকল জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেয়া হলেও এখনো কোনো জেলা থেকেই জমির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

আর অনেক জেলা-উপজেলাতে দানের জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া নতুন করে অধিগ্রহণ করা জমিতে মসজিদ নির্মাণ করাও হবে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়। এক দামে এক বিঘার বেশি জমি পাওয়াও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকার এ প্রকল্পটিতে সৌদি সরকার ৮ হাজার ১৬৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা অনুদান দেবে। প্রকল্পে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ বাবাদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৪ কোটি টাকা। প্রতিটি মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য ন্যূনতম দশমিক ৪০ একর জমির প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রতি ২৪ দশমিক ২ কাঠার জন্য গড়ে দেড় কোটি টাকার কিছু বেশি ধরা হয়েছে জমির দাম। ইসলামি ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, মডেল মসজিদগুলোতে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, পাঠাগার, দাওয়া ওয়াল কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন পঠন ও তাহফিজ, শিশুদের শিক্ষা সুবিধা, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজু ও নামাজঘর, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধা, মৃতদের গোছল করানো এবং হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে। ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলো নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। তবে জমি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ে গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র জানায়, গতবছর জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরকালে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তাব দেয় সৌদি আরব। সেই প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের আগে জমি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাবে। আর দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ফলে তা থেকে সঠিক সুফলও পাওয়া যায় না। প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধির বড় কারণই হচ্ছে জমি অধিগ্রহণজনিত সমস্যা। এদিকে ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল সম্প্রতি প্রতিটি জেলা প্রশাসক বরাবর ডিও লেটার বা চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছেন। তাতে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ন্যূনতম দশমিক ৪০ একর জমি প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, দানসূত্রে, খতিয়ানভুক্ত জমি, খাস জমি, অথবা নতুন করে অধিগ্রহণকৃত জমি নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com