২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর তিনদফা প্রস্তাব

জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর তিনদফা প্রস্তাব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: মহাসাগরের এবং অন্যান্য জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতে প্রযুক্তি সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মহাসাগরের এবং অন্যান্য জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য, বিশেষ করে আমাদের সম্পদ ও পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং প্রযুক্তি সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

সমুদ্র ও অন্যান্য জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তিন দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বিশ্ব সম্প্রদায়কে। একই সঙ্গে সমুদ্রকর্মকাণ্ডে তাদের প্রতিশ্রুতি নবায়ণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (৩ জুন) রাতে ভিডিও কনফারেন্সে সুইজারল্যান্ডের জেনেভোয় ‘ভার্চুয়াল মহাসাগর সংলাপে’ বক্তব্য রাখেন। ‘ওশান অ্যাকশন ভবিষ্যতের প্রজন্মকে সবল করে গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে সমুদ্র অ্যাকশনের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতির নবায়ন করি’ সংলাপের আজকের ‘শতকোটির পুষ্টি’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে, সামুদ্রিক সম্পদের পরিপূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় সম্পদ, সক্ষমতা ও প্রযুক্তিসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করার আহ্বান জানান ।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি, আঞ্চলিক মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং অবৈধ, অননুমোদিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ নির্মূল বন্ধের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মৎস্য উন্নয়ন বিষয়ে যৌথ গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দেন।

তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা, উপকূলীয় বাসস্থান ও জীববৈচিত্র রক্ষায় মাছের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং এর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ এবং ফ্রেন্ডস অব ওশান অ্যাকশনে’র ব্যবস্থাপনায় জেনেভোয় ৫ দিনব্যাপী এই সংলাপ গত ১ জুন শুরু হয়েছে।
সংলাপের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘মহাসাগরীয় স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন এবং কর্মের জন্য জনগোষ্ঠীগুলোকে সংযুক্ত করা।’

করোনাভাইরাস মহামারি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই সভাটি এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সমগ্র বিশ্ব এই ঘাতক ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।

মহাসাগরের এবং মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে তা নিয়ে এই মহামারি সবাইকে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। কেননা অসুস্থতা মোকাবিলায় সমুদ্র একটি বড় উৎসের যোগানদাতা।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নত স্বাস্থ্য খাতে ২০৩০ আলোচ্যসূচির ব্যাপক লক্ষ্যগুলোর ক্ষেত্রে মহাসাগরের অবদান রয়েছে।

একটি স্বাস্থ্যসম্মত মহাসাগর খাদ্য ও পুষ্টির একটি বিশাল উৎস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্র এখন যা করছে তার চেয়েও ছয় গুণ বেশি খাবার সরবরাহ এবং পুষ্টি পূরণে সহায়তা করতে পারে।’

‘মাছের মজুদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও মারাত্মক উদ্বেগের’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থায়ীত্বের জন্য টিকে থাকার জটিল ভারসাম্যে আঘাত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি জনগণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন বক্তব্যে।

‘উন্নত পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আমাদের অগ্রাধিকার’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রম-এনপিপি সব নাগরিকের, বিশেষ করে কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের পুষ্টিগত অবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের ফলেই ৫ বছর বয়সের নিচের যেসব শিশুর অপুষ্টি সমস্যা ছিল তা দূর হয়েছে।

‘বিশ্বে বাংলাদেশ মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মৎস্য সম্পদ দেশের জনগণের প্রায় অর্ধেক প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ জীবন ধারণের জন্য এই মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। বছর বছর মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি বলেন, তার সরকার ‘সুনীল অর্থনীতি’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক মৎসজীবীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

নগরায়ণের ফলে স্থানীয় জলের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই আমরা আমাদের সুনীল অর্থনীতির উদ্যোগের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক মৎসজীবীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

২০১৭ সালের মহাসাগর সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় আমরা কিছু স্বেচ্ছা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আইন করে আমরা প্লাষ্টিক বর্জ্য থেকে শুরু করে যেকোনো দূষণ থেকে সমুদ্র সম্পদ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি।’

অ্যালায়েন্স ফর এ গ্রীন বেভ্যুলুশন ইন আফ্রিকা (এজিআরএ)’র সভাপতি আগ্নিস মাতিলডা কালিবাটা, ফোর এসডি’র পরিচালক ডেভিড নাবারো এবং ওয়ার্ল্ড ফিসে’র ভ্যালু চেইন এবং পুষ্টি বিষয়ক রিসার্চ প্রোগ্রাম লিডার শকুন্তলা থিলসটেডও একই অধিবেশনে বক্তৃতা করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো’র পূর্বে ধারণকৃত ভাষণ একই সম্মেলনের ‘দি হাই সীজ : অপারেটিং উইথইন দ্যা গ্লোবাল কমন্স’ শীর্ষক অপর একটি অধিবেশনে প্রচার করা হয়।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এর্না সোলবার্গের ‘সাসটেইনেবল ওশান ইকোনমি’ শীর্ষক অনুষ্ঠেয় একটি অধিবেশনে আজ বৃহস্পতিবার ভিডিও মেসেজ প্রদানের কথা রয়েছে।

গত ১ জুন ফিজির প্রধানমন্ত্রী জসায়া ভোরিগ বাইনিমারামা’র ভিডিও মেসেজ প্রচারের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়।

মহাসাগর সংলাপে জর্ডানের রানী নূরসহ অন্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন- সুইডেনের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী ইসাবেলা লোভিন, বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিবের মহাসগর বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ওশান ইউনাইট, ফ্রেন্ডস অব ওশান অ্যাকশনে’র কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com