১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৭ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

টার্গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ● বর্তমান নব্য জঙ্গিদের মূল টার্গেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওপর হামলা করা। তাদের মাঠ পর্যায়ে সব কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে যে, যে কোনো উপায়ে পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে হবে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। বিবিসি বাংলাকে তিনি আরও জানান, গত ৭ই মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা এলাকায় একটি বাস থামায় পুলিশ।

সাধারণত মহাসড়কে পুলিশ যেভাবে তল্লাশি পরিচালনা করে এটি ছিল তার একটি অংশ। কিন্তু বাস থামানোর সাথে সাথেই দু’জন তরুণ আকস্মিকভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়ে মারে। কিন্তু সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তরুণরা পালিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক অভিযান চলে। কুমিল্লার সে ঘটনা ছিল জঙ্গি-বিরোধী অভিযানের একটি টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘুরানোর মত বিষয়। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠনের পর থেকে জঙ্গিদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের নেটওয়ার্কগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু হয়। গত তিন সপ্তাহে সীতাকু-, সিলেটের আতিয়া মহল এবং মৌলভীবাজারের দুটি বাড়িতে ‘জঙ্গিবিরোধী অভিযানে’ ১৪ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে পুলিশ দাবি করছে।

তাদের সাথে আরো পাঁচ শিশুও নিহত হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনজন সদস্যও নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধানও আছেন। পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান মনে করেন, এসব ‘জঙ্গিআস্তানা’ চিহ্নিত করা সম্ভব না হলে দেশে বড় ধরনের বিপদ হতে পারতো। সীতাকু- অভিযানের পরে ঢাকায় র‌্যাব ক্যাম্পের ভেতর এবং বিমানবন্দরে পুলিশ চেকপোস্টের সামনে বিস্ফোরণে দু’জন নিহত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে নিহতরা বোমা বহন করছিল। যে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে সেখানে জীবিত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, পালাবার পথ খুঁজে না পেয়ে জঙ্গিরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com