৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ডাকসু নির্বাচন না হলে নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাবে : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ● রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ডাকসু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার বিকেলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দেশে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে না উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না। দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রপতি দেশে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, ছাত্র সমাজকেই দেশের রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭১ সালে মহান মক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা শহীদ এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত মানব সম্পদ গড়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হবার পর থেকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতি, উন্নয়ন ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গতিশীল এবং বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ছাত্র জীবনেই আমার রাজনীতি শুরু করেছিলাম। আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে তিনি ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র রাজনীতি এখন আর ছাত্র রাজনীতির স্থানে নেই, কোন বিশেষ মহল বা ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে রাজনীতির কল্যাণভিত্তিক আদর্শচ্যুত হয়ে যাচ্ছে নেতৃত্ব। ছাত্র রাজনীতি এখন কেন সাধারণ জনগণের আস্থা, সমর্থন ও শ্রদ্ধা হারাচ্ছে।

তিনি ছাত্র রাজনীতিতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না, তবে একজন ছাত্র নেতা হিসাবে তিনি অনেকবার এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে এসেছেন এবং অবস্থান করেছেন। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা প্রসঙ্গে আবদুল হামিদ বলেন, ওইদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাবি ক্যাম্পাসে একটি কর্মসূচিত অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এর আগেই বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করে।

দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিন্তু এখনো আমাদের সমাজ ও দেশে স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি, প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল, ভালো ও মন্দ অথবা ধর্মানুরাগী ও উগ্রবাদীদের মধ্যে লড়াই শেষ হয়নি।’

বক্তব্য দেয়ার আগে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের সুপারিশে ৬১ জনকে পিএইচডি, ৪৩ জনকে এমফিল ও ১৭ হাজার ৮৭৫ জনকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর ৯৪টি স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ৮০ জনকে পদক দেন।

পদক দেয়ার পর বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক অমিত চাকমা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এনামউজ্জামানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এবং উপাচার্য অধ্যাপক অমিত চাকমাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণ থেকে সমাবর্তনের শোভাযাত্রা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় সমাবর্তনের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সমাবর্তন উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কালো গাউন আর সমাবর্তন ক্যাপ পরে এসেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com