বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

‘তথ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই যেন বাবরি মসজিদ মামলার রায় হয়’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তথ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই যেন বাবরি মসজিদ মামলার রায় হয় মন্তব্য করে দারুল উলূম দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস ও জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেছেন, বিশ্বাস নয়, তথ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই হওয়া উচিত আসন্ন বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির মামলার রায়।

মানুষের কাছে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন জানিয়ে আরশাদ মাদানী বলেন, বাবরি মসজিদ মামলার রায় বিপরীত হলেও রায়কে সম্মান জানাবে তার সংগঠন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) কয়েক দশকের পুরানো রাজনৈতিক স্পর্শকাতর এ মামলার প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষ হয়েছে, এবং ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের অবসরের আগেই রায়দানের সম্ভাবনা।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি বলেন, প্রত্যেক বিচার-প্রেমী মানুষই চান, কঠোর তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই মামলার রায়দান হোক, এবং তা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়। তিনি বলেন, আদালতের বিতর্ক শেষ হয়েছে, এখন আমরা রায়দানের অপেক্ষা করছি। আমাদের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খুবই জোরদার প্রশ্ন করেছেন, এবং আমাদের বিশ্বাস, রায় আমাদের পক্ষেই যাবে।

মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী বলেন, আমরা আবারও বলছি, দেশ আমাদের, আইন আমাদের, এবং সুপ্রিম কোর্ট আমাদের। আমরা প্রমাণ দিয়েছি। রায় যাই হোক না কেন, আমরা তাকে সম্মান জানাব।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাবরি মসজিদ মামলার রায় নিয়ে কোনো বিতর্কিত মন্তব্য না করতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে শান্তি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির খবরে জানা যায়, বুধবার (৬ নভেম্বর) দিল্লিতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে মোদি এমনই নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি দেশে এই মুহুর্তে মৈত্রী ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অযোধ্যা মামলার বিষয়টি নিয়ে সবাইকে এই বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দেশে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। বিজয় এবং পরাজয়ের দাঁড়িপাল্লায় এই রায়টিকে দেখা উচিৎ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে বাবরি মসজিদের রায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ওই দিন ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর মেয়াদ শেষ হবে।

২০১০ সালে অযোধ্যা মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দেয়, তাতে ২.৭৭ একরের ওই জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, হিন্দু মহাসভার রাম লাল্লা সংগঠন এবং নির্মোহী আখড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে দিতে বলা হয়। ওই জমির মালিকানা নিয়ে এর পর থেকে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া না ভগবান রামচন্দ্রের (রাম লালা) শুরু হয় সেই বিবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com