২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

তাবলীগে প্রতিবন্ধকতা বাড়াতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে : আরশাদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এর সর্বভারতীয় সভাপতি এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূখপাত্র ও সদরুল মুদাররিসিন আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী জানিয়েছেন, তাবলীগের কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপির রফাদফা ও লেনদেন হয়েছে।

তিনি বলেন, তাবলীগের কাজে বাঁধা দেয়া দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও খারাপ কাজ। আমি মসজিদে মসজিদে তাবলীগের কাজ চালু করতে গনমাধ্যমে ইশতেহার দিয়েছি। মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে কথা বলেছি। নিজামুদ্দীন মারকাজের কাজ বন্ধ কিন্তু সারা দুনিয়ার অনন্য মারকাজ ও মসজিদতো খোলা। সবখানে কাজ চালু করা হোক। সারা দুনিয়ার মসজিদকে দাওয়াতের আমলের দ্বারা মারকাজ বানান।

০৬ আগষ্ট ভারতের দেওবন্দ এলাকায় করোনায় আটকা পড়া বাংলাদেশের তাবলীগের সাথীরা দেশে ফেরার পূর্বে মাওলানা আরশাদ মাদানী দাঃবাঃ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

এসময় মাওলানা আরশাদ মাদানী আরও বলেন, আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করা দরকার। প্রত্যেককেই একে অপরের সাহায্য করা দরকার। আপনারাতো মুসলমান আমাদের ভাই। আমরা এখানকার বাসিন্দা আর আপনারা তো বাংলাদেশের।

জমিয়ত সভাপতি বলেন, এখনতো মাদরাসার (দেওবন্দ) ছুটি। সব জায়গায় দরস পুরোপুরি বন্ধ। তবে একটা কথা যেন মনে করা না হয় যে, যারা দেওবন্দের বাহিরে পড়ে তাদের সাথে দেওবন্দের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা সবাই দেওবন্দি।

গাঙ্গুহীর মাসলাকই মাদরাসার মাসলাক উল্লেখ করে সাইয়্যেদ মাদানী বলেন, এসব মাদরাসার মাসলাক সেটাই, যেটা হযরত গাঙ্গুহী রহমাতুল্লাহি আলাইহির ছিলো। ঐসকল প্রতিষ্ঠানই সঠিক, যা দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ লালন করে। তারা সবাই দেওবন্দী। আমি মাওলানা সা’দ সাহেবের সাথে কথা বলেছি। মারকাজে যদিও তালা লাগানো আছে, এটা তো একটা ব্যপক কাজ। এরা যদিও মারকাজে তালা লাগিয়ে দিয়েছে, তবে এতে কী? প্রত্যেক মসজিদই মারকাজ। প্রত্যেক শহরে মারকায আছে, প্রত্যেক প্রদেশে মারকাজ আছে। এজন্য তাবলীগের কাজ চালু হওয়া দরকার। তাবলীগের কাজ একেবারেই থেমে গিয়েছিলো। আমি পুরা হিন্দুস্থানের পত্রিকাগুলোতে একটা ইশতেহার দিয়েছি।

মাওলানা মাদানী আফসোস করে বলেন, লাখো রুপির রফা-দফা হয়েছে। আমি সবার কাছে এটা বলেছি যে, তাবলীগের কাজকে বাঁধা দেওয়া সবচেয়ে খারাপ কাজ। হিদুস্থানসহ পুরো দুনিয়ায় মুসলমানদের সাথে বিরোধিতা পোষণকারীরা এটাই চায় যে, তাবলীগের কাম খতম হয়ে যাক। তাই আপনাদের কাজ শুরু করে দেওয়া উচিৎ। দুইজন-তিনজন মসজিদে বসে মাশোয়ারা করে নেন এবং গাশতে গিয়ে কথা বলেন। দিল্লিতে কথা বলেছি বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি।

বসে না থেকে কাজে নেমে পড়ার তাগিদ দিয়ে মাদানী বলেন, বসে না থেকে কাজ শুরু করে দেওয়া দরকার। দুজন দুজন অথবা তিনজন তিনজন করে কাজ করতে থাকা। জামাতও যদি বাহির হতে হয় তাহলেও দুজন করে বাহির হও। এটা সত্য যে, মারকায অনতিবিলম্বে খুলে দেওয়া জরূরী এবং মারকাযে আসা ও থাকার ব্যবস্থা চালু করার জন্য চেষ্টাও করে যেতে হবে,

বাংলাদেশের সাথীদের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী বাংলাদেশের কাজের হলত ও সার্বিক বিষয়ে খোজ খবর নেন। তখন তিনি কাকরাইলের আহলে শূরা, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এর সাথে ফোনেও কথা বলেন তিনি।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com