১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

তিস্তায় পানিপ্রবাহ দেখতে ভারতের সংসদীয় দল সিকিম যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● সিকিমের আটটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রীষ্মকালে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ভারতের বিদ্যুৎবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ২১ এপ্রিল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে যাচ্ছেন। চার দিনের সিকিম সফরে তাঁরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেখা ছাড়াও রাজ্য সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সিকিম রাজ্য সরকারের একটি সূত্র গত রোববার রাজধানী গ্যাংটক থেকে ফোনে বলেন, রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তে খুশি। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং অনেক দিন ধরেই চাইছিলেন কেন্দ্র থেকে কোনো প্রতিনিধিদল সিকিমে আসুক। তিস্তার পানির প্রবাহ গ্রীষ্মকালে কতটা, তা প্রতিনিধিদল এসে খতিয়ে দেখুক। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জন্য তিস্তায় পানি কমে গেছে—এমন একটা প্রচার বিভিন্ন মহলে রয়েছে। এর সত্যতা প্রতিনিধিদলটি খতিয়ে দেখবে।

ভারতের বিদ্যুৎবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মধ্যপ্রদেশের টিকমগড় থেকে নির্বাচিত বিজেপির সদস্য বীরেন্দ্র কুমার। কংগ্রেস নেতা অস্কার ফার্নান্দেজ, দীপেন্দ্র সিং হুডা, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগদম্বিকা পাল, বিশিষ্ট আইনজীবী রাম জেঠমালানিসহ লোকসভার ২১ ও রাজ্যসভার ৯ সদস্যকে নিয়ে এই কমিটি গঠিত। এই সংসদীয় কমিটির সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের সুলতান আহমেদ বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এই সফর সেদিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমতি দিলে অবশ্যই সিকিমে যাব।’

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী গত বছর বলেছিলেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কখনো তাঁর সঙ্গে কথা বলেনি। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মনমোহন সিং তিস্তা চুক্তির খসড়া করে ফেললেও তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একবারের জন্য তাঁর মতামত নেননি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে তিস্তা প্রসঙ্গ আলোচিত হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে চুক্তি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মমতা তিস্তার বিকল্প প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশের কাছে তা গুরুত্ব পায়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বক্তব্য, গ্রীষ্মকালে তিস্তার পানি এতটাই কমে যায় যে তা ভাগ করাই অসম্ভব।

কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বাঁধের কারণে পানি আটকে থাকছে কি না এবং গ্রীষ্মকালে তিস্তায় কোনোভাবে পানির পরিমাণ বাড়ানো যায় কি না, তা সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিদল খতিয়ে দেখবে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কৃষি বিভাগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তার এখন যা অবস্থা, তাতে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশকেই গ্রীষ্মকালে সেচের আওতা থেকে জমির পরিমাণ প্রচুর কমিয়ে আনতে হবে। তিস্তা প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে ৯ লাখ ও বাংলাদেশে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com