২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

দরিদ্রদের দুয়ারে খাবার পৌঁছুক

দেশ ভাবনা। জুবায়ের আহমেদ

দরিদ্রদের দুয়ারে খাবার পৌঁছুক

চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়ানো করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর ছোবলে বিপর্যস্ত বিশ্ব। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করার চেয়ে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হলেও এ রোগ থেকে নিরাময়ের জন্য এখনো কোন প্রতিষেধক আবিস্কার না হওয়ায় পুরো পৃথিবী করোনা ভাইরাসের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনা ভাইরাস ছোঁয়াছে প্রকৃতির হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা না থাকায় প্রতিরোধই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র উপায় হিসেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। মার্চের শুরুর দিকে প্রথম রোগী সনাক্ত হওয়ার পর দিন দিন বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শুরুর দিকে পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট না থাকলেও সরকারী-বেসরকারী ভাবে এবং চীনের সহায়তায় এখন পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট আছে বাংলাদেশে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য পিপিইর ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত পিপিই আছে এবং সরকার থেকে সকল প্রস্তুতি ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সরকার দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা সহ আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা সকলকে হোম কোয়ারন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভাইরাসটি যাতে করে সামাজিক ভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য সবাইকে বাধ্যতামূলক ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে বেশি। যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। সেই সাথে সারা দেশের অফিস আদালত, মসজিদ-মন্দির-মাজার ও জনবহুল এলাকাগুলোতে ভিক্ষুক ও ভবঘুরের সংখ্যাও প্রচুর। করোনা ভাইরাস সামাজিক ভাবে যেনো ছড়াতে না পারে তার জন্য নিজের পরিবার ও অন্যদের ভালো রাখার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী সহ সরকার থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সরকারী অফিসাররা রাস্তাঘাট থেকে মানুষদের গৃহে থাকার জন্য অনুরোধ করা সহ প্রয়োজনে লাঠিচার্জও করা হচ্ছে। তবে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিশাল একটা অংশ জীবিকার জন্য কিংবা স্বভাবজাত ভাবে রাস্তাঘাটে চলাফেরা কিংবা কেউ কেউ সাহায্য প্রার্থী হিসেবেও রাস্তাঘাটে চলাফেরা করছেন। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বিশাল একটা অংশ দরিদ্র ও দিনমুজুর প্রকৃতির হওয়ায় সরকারের এই সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময়গুলোতে গৃহবন্ধী হয়ে পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্যের অভাবে পড়বে ও পড়ছে তা স্বাভাবিক। সরকারী বেসরকারী সংস্থা, রাজনৈতিক দল, ধনাঢ্য ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন মাধ্যমের তারকা ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠন সহ ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের কারনে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা ইতিবাচক।

দেশের মানুষের এ ক্রান্তিলগ্নে, দলমত নির্বিশেষে সকলের এগিয়ে আসা ইতিবাচক হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানো তথা সকল রোগীদের চিকিৎসা প্রদান এবং সকল দরিদ্র-অসহায় মানুষদের ঘরে ঘরে খাদ্য দ্রব্য পৌঁছানোর বিষয়ে সংশয় থাকছেই। ঐতিহাসিক ভাবেই বাঙ্গালীর “মেরে খাওয়া” স্বভাব বিদ্যমান। বঙ্গবন্ধু তার একাধিক ভাষণে চাটার দল, চোর, বাটপারদের কথা বলেছেন। যাদের দ্বারা উন্নয়ন ব্যাহত হয়, সরকারী অর্থ লুটপাট হয়, দরিদ্র মানুষের হক লুণ্ঠন হয়। যুগে যুগে এখনো সেসকল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যারা ত্রান, অনুদান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার টাকা লুণ্ঠন করে, এমনকি লাশকে জিম্মি করেও টাকা মেরে খাওয়ার বহু ঘটনা আমাদের দেশে বিদ্যমান। যেসকল কারনে করোনা ভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতেও সরকারী-বেসরকারী ভাবে মানুষের জন্য যে খাদ্যদ্রব্য প্রদানের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে গেলেও সরকারী ভাবে যেসকল সহায়তা প্রদান করা হবে তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার মাধ্যমে দায়িত্ববান সংস্থার মাধ্যমে তদারকি করার কোন বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাস সামাজিক ভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য মানুষজনকে ঘরে রাখতে হলে অসামর্থ্যবানদের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য অবশ্যই তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। একজন মানুষও যেনো কখনো অভিযোগ করতে না পারে যে, গৃহবন্ধী থাকাবস্থায় ভাতের কষ্টে দিনযাপন করেছি।

করোনা ভাইরাস এখনো বাংলাদেশে সামাজিক ভাবে না ছড়ালেও ছড়িয়ে পড়ার শংকা থাকছেই, যার ফলে মানুষজনকে গৃহবন্ধী হয়েই থাকতে হবে সামনের দিনগুলোতে। এই অবস্থায় কঠোর শৃঙ্খলা ও তদারকির মাধ্যমে দরিদ্র-অসহায় মানুষদের ঘরে ঘরে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কোন বিকল্প নেই। সরকার ও সরকারী সংস্থাগুলোকে খাদ্যদ্রব্য প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

লেখক : শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com