মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

দাওয়াত ও তবলীগের বিশ্ব মারকাজ দারুল উলূম দেওবন্দ

দাওয়াত ও তবলীগের বিশ্ব মারকাজ দারুল উলূম দেওবন্দ

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : দাওয়াত ও তবলীগের বর্তমান যে পদ্ধতি চলছে, এটার গোড়া-পত্তন করেছিলেন মাওলানা ইলিয়াছ রহ.। আর মাওলানা ইলিয়াছ সাহেব তো ছিলেন দেওবন্দেরই সন্তান।

সে হিসেবে দাওয়াত ও তবলীগের মেহনতের সাথে দারুল উলুম দেওবন্দ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দেওবন্দের সকল আসাতিযায়ে কেরাম ও ছাত্র বৃন্দ তবলীগের কাজ কে ভালবাসেন। এবং এ কাজের সাথে সব সময় লেগে থাকার চেষ্টা করেন।

দেওবন্দ এর ছাত্তা মসজিদ হলো তবলীগের মারকাজ। এ মসজিদে রাত-দিন জামাত আসা যাওয়া করে। আবার এখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় জামাত পাঠানো হয়। দারুল উলুমের ছাত্রগণই এ মারকাজ পরিচালনা করেন। এবং এ মারকাজের সাথে সরাসরি নিজামউদ্দিন মারকাজের সম্পর্ক।

নিজামউদ্দিন মারকাজে দারুল উলুমের ফারেগীন ছাত্রগণই যেয়ে থাকেন। দেওবন্দের ছাত্রগণ নিজামউদ্দিন গিয়ে সেখানকার কর্ণধর বনে যান। ভবিষ্যত তবলীগের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তৈরী হন তারা। আজো কিন্তু দেওবন্দের ফারেগীন আলেম ছাড়া নিজামউদ্দিন অচল। দেওবন্দের ওলামায়ে কেরামের বিশেষ নেগরানীতে দাওয়াত ও তবলীগের মিশন বিশ্বব্যাপি এগিয়ে চলেছে।

দেওবন্দের প্রতিটি ছাত্রাবাসে হালকা রয়েছে। হালকায় জিম্মাদারও আছেন। এমনি ভাবে পুরো দারুল উলুমে তবলীগের শুরা কমিটি রয়েছে। তারা এসব কাজের আন্জাম দিয়ে থাকেন।

প্রতি বৃহস্পতিবারে দারুল উলুম থেকে ২৪ ঘণ্টার জামাত বের হয়। দেওবন্দের আশপাশের এলাকা, এমনিভাবে সাহারাণপুর, মোজাফ্ফর নগরসহ বিভিন্ন জায়গায় জামাত পাঠানো হয়ে থাকে।

কোরবানীর ছুটির সময়, শশমাহী ইমতেহানের সময় দশদিন,তিন দিনের জামাত বের হয় এবং সালানা ইমতেহানের সময় চিল্লা, তিন চিল্লা, ও এক সালের জামাত দেশ বিদেশে বেরিয়ে থাকে।

দারুল উলুমের দাখেলা ইমতেহানের সময়ও তিন দিনের জামাত বের হয়, এবং এসব জামাত গুলো এক স্থানে মিলিত হয়ে এক বিশাল ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।

দারুল উলুমে হাজার হাজার ছাত্র। জামাত যখন বের হয়, এক সাথে কয়েকশত জামাত তৈরী হয়ে বিভিন্ন জায়গায় রওয়ানা হয়, সে এক আজীব দৃশ্য।
দারুল উলুম তো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রগণ তো সেরকম। সব মেধাবী মুখ গুলোর ছোঁয়াতে তবলীগের কাজ অনেক গতির সঞ্চার হয়। এর মেহনত ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশান্তরে।

এই দারুল উলুমেই দেশ -বিদেশের ছাত্র। পুরো ভারত ছাড়াও, বাংলাদেশ, বার্মা, নেপাল,পাকিস্তান, লন্ডন, আফ্রিকাসহ বহু দেশের শিক্ষার্থী এখানে। তা’লীমের পাশাপাশি তবলীগের কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয় তারা। তবলীগের কাজের প্রতি স্বচ্চ ধারণা জন্মায় এই দারুল উলুম থেকে।

যখন দারুল উলুম থেকে এসব শিক্ষার্থীগণ ফারেগ হয়ে নিজ দেশে ফিরে যান, সেখানেও তারা দাওয়াতের এই মেহনতে আত্মোনিয়োগ করে। জুড়ে থাকে সব সময়। সারাটা জীবন তারা তবলীগের মেহনতে কাটিয়ে দেন।

সারা বিশ্বের মারকাজের সাথে তাই তো লেগে আছে, দেওবন্দের সন্তানেরা। বিশ্বের যে মারকাজে যাবেন, সেখানেই ওলামায়ে দেওবন্দের বিশেষ নেগরানীতে দাওয়াত ও তবলীগের কাজ এগিয়ে চলেছে।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com