১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৮শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

দিনাজপুরের ৫০০ বছর আগের সুরা মসজিদে এখনও হচ্ছে নামাজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সুরা মসজিদ। প্রায় ৫০০ বছর আগের প্রাচীন স্থাপনাটির নির্মাণশৈলী দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক। এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন অনেকে।

ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ মাইল পশ্চিমে হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে চৌগাছা নামক স্থানে গেলে দেখা যাবে মসজিদটি। স্থানীয়দের মতে পাঁচ শ’ বছর আগে জিনেরাই নাকি রাতারাতি মসজিদটি নির্মাণ করেছে।

মসজিদটির কারুকাজ ও শৈলী দেখে কারও ধারণা এটি সুলতানি আমলে পঞ্চদশ শতকের শেষদিকে বানানো। মসজিদটির বাইরের দিকের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪০ ফুট এবং পূর্ব পশ্চিমে ২৬ ফুট। চার ফুট উঁচু মজবুত প্লাটফর্মের ওপর মসজিদটির কাঠামো গড়ে উঠেছে।

প্রধান কক্ষের আয়তন ১৬ ফুট। নামাজকক্ষটি বর্গাকার। একেক পাশের দৈর্ঘ্য ৪.৯ মিটার করে। সব কোণে আছে অষ্টভুজ স্তম্ভ। মোট ছয়টি স্তম্ভ। কার্নিসগুলো বাঁকানো। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে খিলান পথ আছে। পশ্চিমে আছে তিনটি কারুকাজ করা মিহরাব। মসজিদের বারান্দাজুড়ে আছে তিনটি গম্বুজ। পুরো মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপকাটা টেরাকোটার অলংকরণ আছে। দেয়ালের সুসজ্জিত নকশা বিমোহিত করে দর্শনার্থীদের। উপরে বর্গাকার গম্বুজ। পূর্বদিকে ছোট তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি বারান্দা আছে।

এ মসজিদে ইটের সঙ্গে পাথরের ব্যবহারও করা হয়েছে। দেয়ালের মাঝে পাথরের স্তম্ভ, ইটের গাঁথুনি চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া প্রত্যেক দরজার নিচে পাথরের চৌকাঠ আছে। এ মসজিদে ব্যবহৃত কালো ও বেলে পাথর বাঙলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত রাজমহল থেকে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

মসজিদটি দেখতে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সুরা মসজিদ একটি দর্শনীয় স্থান। বিভিন্ন বইয়ে এর ছবি রয়েছে। মসজিদটি মুসলিমদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। জায়গাটিও অনেক সুন্দর। এই করোনার সময়ও আমার মতো অনেকে এসেছে মসজিদটি দেখতে। তবে এখানে বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ সবের সমাধান করা হলে আরও অনেকেই এখানে আসবে।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি সেকেন্দার আলী বলেন, আমি বেশ কয়েক বছর ধরে মসজিদটির দায়িত্বে আছি। আগে আমার পূর্বপুরুষরা এর দায়িত্বে ছিলেন। এই মসজিদের পেছনে অনেক ইতিহাস। আগামী প্রজন্মের জন্য মসজিদটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এর কিছু সংস্কার এখনও বাকি। উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ শেষ করেছে। বাকিটাও দ্রুত শেষ করতে পারলে মসজিদটি দেখতে আরও দর্শনার্থী আসবে। বিশেষ করে মসজিদের মূল ফটকে একটি গেট নির্মাণ ও নামাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা গেলে এখানে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিদেরও সুবিধা হবে।

মসজিদের পেশ ইমাম মিজানুর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসেন এখানে নামাজ আদায় করতে। কেউ কেউ দেখতেও আসেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com