মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:২৮ অপরাহ্ন

দুই ধাপ পরেই এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

দুই ধাপ পরেই এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

পাথেয় রিপোর্ট : আর মাত্র দুই ধাপ বাকি আছে এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের দণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এখন এ জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাকি থাকল দুটি ধাপ।

নিয়ম অনুযায়ী, আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে পারবেন তিনি। রিভিউ খারিজ হলে শেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ পাবেন এটিএম আজহারুল।

সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলামের রায় বহাল থাকায় তার দণ্ড কার্যকরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষা এখন।

রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ নিষ্পত্তির পর ট্রাইব্যুনাল বিচারিক আদালত থেকে তার মৃত্যুপরোয়ানা জারির পর মার্সি পিটিশন বা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়াটি এর মধ্যে বিদ্যমান।

যদিও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, রায় লিখেই বিচারপতিরা এটিএম আজহারুল ইসলামের দণ্ড ঘোষণা করেছেন। এখন রায় প্রকাশের অপেক্ষা। তবে, এটাও দেখার পালা যে, রায় প্রকাশের পর আসমিপক্ষ রায়ের রিভিউ আবেদন করবেন কি-না? রিভিউ করার পর তা নিষ্পত্তি এবং রিভিউ নিষ্পত্তির পর পরোয়ানা জারি করবেন ট্রাইব্যুনাল। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিধান রয়েছে। এর পরপরই দণ্ড কার্যকর হবে।

রিভিউ নিষ্পত্তি হলে সরকারের সিদ্ধান্তে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শুরু হবে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের তোড়জোড়। অবশ্য শেষ আইনি সুযোগ হিসেবে এটিএম আজহারুল ইসলাম তার অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানাতে পারবেন। সেটি না করা হলে বা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হলে তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী রিভিউর প্রক্রিয়া তুলে ধরে বলেন, আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদনের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন আজহার। এ সময়ের মধ্যেই তাকে রিভিউ আবেদন করতে হবে। রিভিউ আবেদনে যদি দণ্ড বহাল থাকে, তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বা প্রাণভিক্ষার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে তাকে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে হবে।

তিনি বলেন, শেষপর্যন্ত যদি প্রাণভিক্ষার আবেদনও খারিজ হয়, তাহলে সরকার যেকোনো দিন দণ্ড কার্যকর করতে পারবে। কারাবিধির নিয়ম হলো, ২১ থেকে ২৭ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হয়। তবে মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এখানে সরকার যখন খুশি দণ্ড কার্যকর করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com