৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

দেওবন্দের নতুন নেতৃত্ব ও কারী উসমান মনসুরপুরী

দেওবন্দের নতুন নেতৃত্ব ও কারী উসমান মনসুরপুরী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিপজ্জনক একটা টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হলে দারুল উলূম দেওবন্দে শীর্ষ আলেমদের আহ্বানে শাইখুল আর ওয়াল আজম মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. বাংলাদেশের সিলেট থেকে ছুটে গিয়েছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দ। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের বৃক্ষ হিসেবে রোপণ করা এই দেওবন্দই দারুণ অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব গড়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলো। বিশ্ব আজও এই দেওবন্দের নেতৃত্বকে অকপটে স্বীকার করে। ধর্মীয় বিষয়ে ভারতের দেওবন্দই নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জনতা পাটি বা আরএসএস-এর সহিংস শাসনের কবলে যখন মুসলমানদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ঠিক তখন জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম মাওলানা কারী উসমান মনসুরপুরী দেওবন্দের দায়িত্বে এলেন। নতুন চমকিয়া কিছু অপেক্ষা করছে সবাই। ভারতীয় সরকারের সঙ্গে মুসলমানদের বিরোধকে আমলে নিয়ে কীভাবে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের প্রশাসনকে কীভাবে চালাবেন তা-ই এখন দেখার বিষয়।

অসাম্প্রদায়িক ভারত গড়ার পেছনে জমিয়তে উলামা হিন্দর অবদান সবারই জানা। যুগসন্ধিক্ষণের চরম এই মুহূর্তে আবারও যে জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর প্রয়োজন তা এখন স্পষ্ট। স্বভাবতই দেওবন্দসহ ভারতের সব দ্বীনী মারকাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য জমিয়তের সাহসী উদ্যোগও জরুরি। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনের মতোই বর্তমান সময়ের পথচলাও গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক ধর্মীয় বিশ্লেষকগণ মনে করেন, সর্বভারতীয় জমিয়তে উলামা হিন্দের চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম মাওলানা কারী উসমান মনসুরপুরী দারুল উলূম দেওবন্দকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে পারবেন। তার সেই সক্ষমতা রয়েছে। তিনি মাদানী খান্দানের হওয়ায়, জমিয়েতর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল হওয়ায় সেই প্রভাবও রয়েছে। নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব খাটিয়ে দেওবন্দকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগে তিনি সফল হতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যতম ইসলামিক উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার তিনদিনের মজলিসে শুরার বৈঠকে নেওয়া হল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার বাজেট পেশ করা হয় এবং ২য় দিনের বৈঠকে মাদ্রাসার নির্মাণ ও শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা হয়। সঙ্গে মাদ্রাসা চালুর ব্যাপারে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। তৃতীয়দিন অর্থাৎ সমাপ্তির দিনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এরমধ্যে অন্যতম হল প্রয়াত শাইখুল হাদিস মুফতি সাইদ আহমদ পালনপুরী রহ.-এর শূন্য পদে নতুন নিয়োগের ব্যাপারে।

শাইখুল হাদিস পদে কয়েকজন উচ্চস্তরের ধর্মীয় বিদ্বানদের নাম পেশ করা হয়। দীর্ঘ গঠনমূলক আলোচনা, পর্যালোচনার শেষে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে মুফতি আবুল কাসেম নোমানিকে শাইখুল হাদিস পদে নিযুক্তি দেওয়া হয়। মাওলানা নোমানি দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম পদেও রয়েছেন। মাদ্রাসার সদরুল মুদররিসীন অর্থাৎ অধ্যক্ষ পদে নিযুক্তি পেলেন সর্বভারতীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি শায়খ মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানি।

অন্যদিকে নির্বাহী মুহতামিম পদে নিযুক্তি পেলেন মাহমুদ মাদানি নেতৃত্বাধীন জমিয়ত জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ক্বারী মাওলানা উসমান মনসুরপুরী।

উল্লেখ্য, তিনদিনের মজলিসে শুরার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অাসাম রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও সাংসদ মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল, দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মাওলানা গোলাম মোহাম্মদ বাস্তনভী, মাওলানা আব্দুল আলেম ফারুকী, মাওলানা রহমত উল্লাহ কাশ্মিরী, মাওলানা মালেক ইব্রাহিমী, মাওলানা নিজাম উদ্দিন খামোশ ,মাওলানা হাকেম কালেমুল্লাহ প্রমুখ।

এদিকে সৈয়দ মাওলানা আরশাদ মদনী ,আবুল কাসেম নোমানী ও ক্বারী উসমান মনসুরপুরীকে অাসামবাসীর পক্ষে সাধুবাদ জানান অাসাম রাজ্যিক জমিয়ত উলামা হিন্দের অন্যতম কর্মকর্তা তথা জনিয়া সমষ্টির বিধায়ক ড. হাফিজ রফিকুল ইসলাম।

তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com