২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

দেওবন্দ ও জমিয়তে উলামা হিন্দ কেন সেরা?

দেওবন্দ ও জমিয়তে উলামা হিন্দ কেন সেরা?

মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ শ্রেষ্ঠ হতে কিছু গুণ লাগে। আকাশ থেকে ধপাস করে জমিনে পড়ে কেউ শ্রেষ্ঠ হয় না। পেয়ারে হাবিব (সা.) মক্কার রুক্ষ ভূমিতে কঠিন অন্তরের লোকগুলো থেকে ‘আল আমিন’ উপাধি এমনিতেই পাননি। এটার জন্য তাঁকে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছিল। রাসূল (সা.) কর্মে সিদ্ধহস্ত ছিলেন বয়ানবাজিতে নয়। তাই তিনি উপাধি পেয়েছিলেন মানবতার নবী, দয়ালু নবী, বিশ্ববাসীর জন্য রহমত সরূপ ইত্যদি ইত্যাদি।

যুগ যুগ ধরে যারা পেয়ারা নবীর মানবতার দিকটাকে সমুন্নত করেছেন কর্মে। দেশ ও জাতী তাদেরকে বরণ করেছে মহা সমারোহে। আজকের বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে পর্যদুস্ত, হায় হায় রব পড়ে গেছে মানবসভ্যতায়। অর্থনীতি স্মরণকালের ভয়াবহ ধ্বসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। গোটা পৃথিবীর চিকিৎসা খাত মুখ থুবড়ে পড়ছে। সারা দুনিয়ার এই ক্রান্তিলগ্নে অনেক মানুষ ও সংগঠনের মানবিক চেহারাটা আমরা দুনিয়াবাসী দেখতে পাচ্ছি। এশিয়া মহাদেশে ‘জমিয়তে উলামা হিন্দ’ ও ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ নিজেদের স্বল্পতা সত্ত্বেও মানবতা, দেশ ও জাতীর সেবার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তা এক কথায় অসাধারণ। জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানী সাহেব ঘোষণা দিলেন আমরা দশ হাজার করোনা রোগীর জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করে দিব। আর দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম সাহেব ঘোষণা দিলেন করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য দারুল উলুমের ভবন খালি করে দিব। আল্লাহ পাক তাঁদের এ খেদমত কবুল করে নিন এবং এ থেকে আমাদের ও উৎসাহিত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

জমিয়ত আর দারুল উলুম তো এ দেশেও অভাব নাই। আবার এটা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ অথচ আমরা থাকি ভেজা বিড়ালের মত। কেন?

প্রিয় পাঠক! এটা ভেবে ধোঁকা খাবেন না যে, এটা বোধহয় তাদের নতুন কোন ঘোষণা। না, দেশ ও জাতীর প্রশ্নে তারা আজন্ম ছিল আপোষহীন। দেশ ও জাতীর যখন রক্ত দরকার তারা রক্ত দিয়েছিল, যখন টাকা দরকার তখন দেশের জন্য ভিক্ষা করে হলেও টাকা দিয়েছিল। যখন ইজ্জত দেওয়া দরকার ছিল তখন ইজ্জত দিয়েছে, তথাপিও দেশ ও জাতীকে বুকে আগলে রেখেছে। তাই তো একটি সাম্প্রদায়িক, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে থেকেও তাঁরা বুক ফুলিয়ে ইজ্জতের সাথে চলে।

এর মূল রহস্য কি? এতক্ষণে যা পড়লেন। অথচ জমিয়ত আর দারুল উলুম তো এ দেশেও অভাব নাই। আবার এটা নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ অথচ আমরা থাকি ভেজা বিড়ালের মত। কেন? কারণ দেশ ও জাতীর জন্য বয়ানবাজি ছাড়া আমাদের আর যে কোন অস্ত্র নাই। আমাদের চোখে মানুষ পড়ে না সব নাস্তিক আর কাফের। আমাদের ভাবখানা এমন দেশটা জারজে ভরে গেছে ভাল মানুষ আমি ছাড়া আর কেউ নাই।

সুতরাং ওদের আবার কিসের খেদমত। আখেরাত বরবাদ করব নাকি? আমরা আমাদের মানসিকতা বদলাতে পারিনি, তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে বলার মত কোন অবদান আমাদের নেই। কুরআন হাদিস পড়েছি ঠিক তবে তা তালাবদ্ধ করে রেখেছি। দেওবন্দে পড়তে যাই ঠিক, তবে তাঁদের শিক্ষা বর্ডারে ফেলে আসি এ দেশে তা আনা ঠিকনা। কারণ দেওবন্দ হচ্ছে সেক্যুলারিজম রাষ্ট্রে অথচ আমরা থাকি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে। যখনই দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ আসে তখনই আমরা নন্দ ঘোষ সাজি। গা বাঁচিয়ে এভাবে আর কতদিন? ইতিহাস লেখা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। ইতিহাসে নাম লেখাতে হলে যুক্তি তর্ক বাদ দিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে। তবেই কেবল ইতিহাসের অংশ হতে পারব একদিন ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com