মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

দেখা হলো না মোমেনশাহী

দেখা হলো না মোমেনশাহী

সারোয়ার আলম ভুইয়া : ৯০ সালে আল্লামা মাসউদ দা.বা. এর সফর সঙ্গী হয়ে ময়মনসিংহের খাগডহর জামিয়া আশরাফিয়ায় গিয়ে ছিলাম।সেটির উপলক্ষও ছিল ইজতিমা। সেপ্টেম্বর ১৯-এর ১৫-১৬ ও ১৭ তারিখের ইজতিমা ছিল মৃত্যুর পর অনাদী- অনন্তকাল কিভাবে সুখে থাকা যায় সে ইজতিমা।কবর, হাসর, ফুলছিরাত, আল্লাহর বিচারের দিন নিয়ে আলোচনা।

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে হযরতুল আল্লাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা. এর আলোচনা ছিল, একজন নায়েবে নবী আওয়ামুন্নাছকে দ্বীন শিখানোর জন্য, একজন আলেমেদ্বীনকে কি কি কাজ করতে হবে এ নিয়ে তত্ত্ব এবং তথ্যবহুল আলোচনা।

একজন তালিবে ইলমকে আকাবিরে দেওবন্দ-এর চিন্তা-চেতনার আলোকে, পরিপূর্ণ দায়ী হিসাবে গড়ে উঠতে হলে কি কি বিষয়ে বুৎপত্তি অর্জন করতে হয়, তা নিয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা পেশ করা।

রচনা ও সাংবাদিকতার ময়দানে কীভাবে একজন ধীমান ও বিদগ্ধ লিখক হওয়া যায়। বয়ান -বক্তব্যের ক্ষেত্রে কিভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দ্বীনের সঠিক ও বিশুদ্ধরূপ রেখা তুলে ধরা যায়।কীভাবে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঠিক উত্তরসূরী হয়ে গড়ে উঠা যায় এ নিয়ে আলোচনা।

১৯৯০ সালে জামিয়া আশরাফিয়ায় ইজতিমা ছিল ছাত্রদের প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গড়ে উঠা তরবিয়্যতি সংগঠন, “লাজনাতুত তালাবা বাংলাদেশ” এর ময়মনসিংহ জেলা শাখা আয়োজিত।হুজুরের সফরসঙ্গি হিসেবে আমরা ঢাকা থেকে উপস্থিত হয়েছিলাম।দুই দিনব্যাপি ইজতিমা শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকে।যারা উপস্থিত হয়েছিল, সবাই এখন বড় মানের লিখক, প্রতিষ্ঠিত আলেমে দ্বীন।

কুমিল্লা শহরের টাউন হল মিলনায়তনের মতো ময়মনসিংহেও একটি “টাউন হল মিলনায়তন” আছে। একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত সেমিনারে, আল্লামা মাসউদ সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন।
বয়স ও সময়ের চাহিদার আলোকে, আমরা কয়েকজন মিলে শহরে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে দেখতেই সময় পেরিয়ে যায়। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এর পরের বার ইজতিমায় এসে এ শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখবো।

জীবন কেটে যায় বহতা নদীর মতো। সময় আর নদীর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের জন্যও করছে না।তখন যখন এসেছিলাম আল্লাম মাসঊদের তেমন কোন দাড়ী পাকা ছিল না।আর আজ! দুনিয়ার তা’লিমের দিন শেষ!আখেরাতের তা’লীম নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। আল্লামা মাসঊদ দা.বা.-এর সাথে যিনি আমাকে পরিচয় করিয়ে ছিলেন, সুসম্পর্ক গড়ে দিয়ে ছিলেন, তিনি হলেন আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ. তিনিও দুনিয়ার সফর শেষ করে আলমে বরঝখে আছেন।আল্লাহ হুজুরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুক।

আবারো পুরনো একজন শ্রদ্ধাভাজন উস্তাজে মুহতারাম, মহান ব্যক্তিত্বের সাথে মোমেনশাহীতে এলাম।শহর ঘুরে দেখার সেই পুরনো খাহেশ আজ আর নেই।বসে বসে পরকালের বয়ান শুনতে শুনতে যখন মাজা ব্যথা হয়ে যায়, মৃত্যুর চিন্তা মাথায় নিয়ে কিছুটা ঘোরাঘুরি ও চা পান করে আবার এসে বসি।আমকে এ দুনিয়া ছেড়ে, পাড়ি জমাতে হবে পরপারে। মা বাবা যেভাবে গিয়েছে এ দুনিয়া ছেড়ে।

মোমেনশাহীর ইজতিমার এ কটা দিনে, মনে হয়েছে রাব্বে কারীমের দরবারে যে ক ফোটা চোখের পানি ফেলতে পারলাম, যে সময়টা জিকির-আজকারে কাটাতে পারলাম, সে সময়টাই আমার আখেরাতের পাথেয়।সময় কোথায় ঘুরে দেখার!সময় কোথায় অপ্রয়োজনে নষ্ট করবার।

লেখক : সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com