৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

দেশে গতি ফিরেছে কৃষি ঋণে

দেশে গতি ফিরেছে কৃষি ঋণে

লক্ষ্যমাত্রা ২৬২৯২ কোটি টাকা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ব্যাংকগুলোর কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণে গতি ফিরেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২৬২৯২ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি থেকে বলা হয়েছে, কৃষি ও পল্লীঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকসগুলোর জন্য ১৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। বন্যার কারণে প্রথম দিকে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়ে পড়লেও এখন তা গতি পেয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২২ হাজার ৭৪৯ দশমিক শূন্য ৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত অর্থবছরে কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন ৩০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৬ জন। যার মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন নারী ৮ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন। ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৮ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৭ হাজার ১৭৯ জন কৃষক ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষি ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশকিছু সময়োপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে চলতি অর্থবছরে।

এ নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজিত বিষয়গুলো হচ্ছে : গয়াল ও তিতির পাখি পালনের জন্য ঋণ দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঋণ দেওয়া, কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতায় গরু মোটাতাজাকরণে ঋণ দেওয়া, ঋণ নিয়মাচারে একর প্রতি ফসলের ঋণসীমা বাড়ানো।

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কৃষিখাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করছে। এছাড়া সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় তৈল ও মসলা জাতীয় ফসল (ভুট্টা ছাড়া) শস্য ও ফসলখাতে স্বল্প সুদে (চার শতাংশ হারে) কৃষকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে, যা চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে বিদ্যমান থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com