সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

দেশ ও ধর্মের কল্যাণে আলেম সমাজের রাজনীতি

দেশ ও ধর্মের কল্যাণে আলেম সমাজের রাজনীতি

আইমান সাদিক ● মুসলমান উম্মাহের বহু সমস্যার সমধান এবং তাদের অগ্রগতি-উন্নতি ও শরীয়তের অনেক বিধান এমন আছে, যা সম্মিলিতভাবে ছাড়া এককভাবে পালন করা সম্ভব নয়। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত ও রাসূল সা.-এর বহু হাদীস এমন আছে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া যেগুলোর উপর আমল করা অসম্ভব। তাই মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং একটি সংগঠন গড়ে তোলা আব্যশক। যার অধীনে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলী সম্পাদন করবে।

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনার মধ্য দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সার্বজনীন সমৃদ্ধশালী সমাজ গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। মুসলমান একটা লক্ষ্য থাকবে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্র ও সমাজের বুক থেকে তাগুতি শক্তির দৌরাত্ম্য চিরতরে খতম করে মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসত্ব ও গোলামীতে লিপ্ত করা। তাই আমরা দেখতে পাই যুগে যুগে এ উম্মতের বিশিষ্টজন গড়ে তুলেছেন বিভিন্নরকম সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, পরিচালনা করেছেন রাজনৈতিক কার্যাবলী।

এখানে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বিভিন্ন সময় অনেক সুধীজনকে বলতে শুনা যায়, ধর্মের সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বা আলেমসমাজ রাজনীতিতে জড়াবেন কেন? ইত্যাদি। সুধীজনদের এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভ্রান্ত। কারণ, ইসলাম সঙ্গে যে রাজনীতির সম্পর্ক নেই এমন না। আর ইসলাম বা ধর্মকে বাদ দিয়ে কখনে আদর্শ ও কল্যাণকর রাজনীতি হতে পারে না। ধর্মকে বাদ দিলে সাধারণত রাজনীতি হয় শাসন-শোষণ ও নির্যাতন-নিপীড়নের হাতিয়ার। দেশ-জাতি এবং ধর্মের কল্যাণ ও সুরক্ষার প্রতিটি কর্মে উলামায়ে দেওবন্দ বা কওমী আলেম সমাজের সম্পৃক্ততা আছে। আদর্শ রাজনীতির ক্ষেত্রেও রয়েছে তাদের সফল পদচারণা।

উলামায়ে দেওবন্দ তথা কওমী আলেম সমাজ রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় শুধু অংশ গ্রহণই করেননি; বরং জাতীয় পর্যায়ে তারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বৃটিশ বেনিয়াদের কবল থেকে ভারতকে স্বাধীন করার জন্যে তারাই ছিলেন পথিকৃত। এদেশের মানুষের মাঝে তারাই জাগ্রত করেছিলেন স্বাধীনতার চেতনা। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে ‘দারুল হরব (শত্রু কবলিত দেশ)’ বলে ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদেরই পূর্বপুরুষ শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.। পরবর্তীতে তার শিষ্য সায়্যেদ আহমদ শহীদ রহ. ও শাহ্ ইসমাইল শহীদ রহ. এর নেতৃত্বে বালাকোটের যুদ্ধ। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. ও হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণে শামেলীসহ বিভিন্ন যুদ্ধ পরিচালনা ছিল আকাবিরে দেওবন্দ তথা কওমী আলেম সমাজের কৃতিত্ব।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, রেশমী রুমাল আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন প্রভৃতি তাদের সোনালী ইতিহাস। মাল্টা, নৈনিতাল, করাচীসহ বহু স্থানের জেলখানা এখনো তাদের স্মৃতি ধারণ করে আছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, দেশমাতৃকার হেফাজতে হযরত শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ., শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ., মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধী রহ. প্রমুখ আকাবিরে দেওবন্দ যে নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, ত্যাগ-তিতিক্ষার নজির স্থাপন করেছেন তা আজও গোটা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী প্রতিটি মানুষকে প্রেরণা যোগায়। খুঁজে পায় পথ চলার দিক নির্দেশনা।

লেখক : শিক্ষার্থী, দারুস সুন্নাহ মাদরাসা, গাজীপুর

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com