২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

দোহায় শুরু হল আফগান-তালেবান শান্তি আলোচনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিরবচ্ছিন্ন দুই দশক ধরে দেশের ভেতরে যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের রক্ত ও প্রাণ হারানোর পরে অবশেষে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে ‘শান্তি’ আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দোহার একটি হোটেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্মিলনী পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। খবর আল জাজিরার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে হাত মেলাই এবং সততার সঙ্গে কাজ করি, তাহরে দেশে চলমান চলমান দুর্দশার অবসান হবে।’ তিনি ‘মানবিক’ কারণে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

তালেবানের উপনেতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার বলেন, ‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমি আফগানিস্তানে ইসলামী ব্যবস্থা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা চাই আফগানিস্তান একটি স্বাধীন ও উন্নত দেশ হোক এবং এতে ইসলামিক ব্যবস্থা কায়েম হোক, যেখানে এর সমস্ত নাগরিক নিজেদের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। সেটা ঠিক করতে হবে খোলা মন নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধমেই।’ তিনি বলেন, দুই পক্ষকেই একে অপরারের কথা বুঝতে হবে। দুই পক্ষকেই নিপূণভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুরো বিশ্ব আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আপনাদের সফলতা দেখতে চায়।

উদ্বোধনী ভাষণে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি বলেন, ‘দুই পক্ষকেই বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। কাউকে এককভাবে বিজয়ী হওয়ার মনোভাব ত্যাগ করতে হবে।’

গত মার্চেই আন্তঃআফগান আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তির অংশ হিসাবে বন্দি বিনিময়ে মতভেদ ঘটায় তা বিলম্বিত হয়েছিল। চুক্তিতে তালেবান এক হাজার আফগান সেনা মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিল। আর আফগান সরকার বলেছিল তারা ৫০ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেবে।

তবে আফগানিস্তানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ বলেছেন, আলোচনার ফলে দেশে যুদ্ধের সমাপ্তির আশা বাড়লেও এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

আলোচনার টেবিলে পাঁচজন মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা আলোচনার সময় নারীর অধিকার রক্ষার এবং সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। আফগান সরকার বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সমর্থন করে, কিন্তু তালেবান ইসলামি শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায়।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com