২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং , ১৯শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৯ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

‘দ্বীনি সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা দিতেন মাওলানা আশরাফ আলী রহ.’

‘দ্বীনি সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা দিতেন মাওলানা আশরাফ আলী রহ.’

পাথেয় রিপোর্ট :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আল্লামা আহমদ শফী অসুস্থ থাকার কারণে তাকে দেখতে গেলে তিনি আল্লামা আশরাফ আলী রহ. এর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। কঠিন মুহূর্তে তার পরামর্শ নিয়ে আমরা দ্বীনি সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা পেতাম। আমরা একজন মহান ব্যক্তিকে হারিয়ে বিরাট কিছু হারিয়ে ফেলেছি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আল্লামা আশরাফ আলী রহ. আদর্শ আমাদের ধারণ করতে হবে। তিনি ছিলেন ঐক্যের প্রতীক। ইসলামী আন্দোলনের ময়দানে তার ভূমিকা ছিল অনুস্বরণীয়। তিনি কওমী শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, বিশেষত তাবলীগ নিয়ে যখন বেকায়দায় পড়েছিলাম তার পরামর্শ নিয়ে আমরা দ্বীনি সঙ্কট থেকে উত্তরণে সহায়তা পেতাম।

শনিবার সকাল ৯টায় গুলিস্তান কাজী বশির মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে জাতীয় কনফারেন্স প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অভিভাবক পরিষদ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, আল-হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান, আল্লামা আশরাফ আলী রহ. স্মরণে জাতীয় কনফারেন্স বক্তৃতা করেন দেশের শীর্ষ আলেমগণও।

কনফারেন্সে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনি একদিকে হাদিসের মসনদে ছিলেন উজ্জল নক্ষত্র অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের ময়দানে সরব ছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন ইস্যুতে উনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লক্ষণীয়। তিনি দলমত নির্বিশেষে সমস্ত উলামায়ে কেরামের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কওমী মাদরাসা শিক্ষা উন্নয়নে তিনি আমরণ কাজ করে গিয়েছেন।

আমীরে মজলিস শায়খুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূপুরীরর সভাপতিত্বে কনফারেন্সে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামীদ, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) এর সহ সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী, মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, জামেয়া মোহাম্মদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম, কুমিল্লা বটগ্রাম মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা নুরুল হক, মুসলিম লীগ এর মহাসচিব এডভোকেট কাজী আবুল খায়ের, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, হজ্জ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলীম, রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, আশরাফ আলী রহ. এর সাহেবজাদা মাওলানা সাব্বির আহমদ।

কনফারেন্সে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, ড. জি এম মেহেরুল্লাহ, মাওলানা এনামুল হক মূসা, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুল হক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, নির্বাহী সদস্য মাওলানা জসীম উদ্দীন, মুহাম্মদ আব্দুর রহীম, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন খান প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, দেশ ও ইসলামের যেকোন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আপসহীন ভূমিকা রাখতেন। জীবনের শেষ মুহূর্তেও কাদিয়ানীদেরকে সরকারিভাবে অমুসলিম ঘোষণার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে আমীরে মজলিস শাইখুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী বলেন, আশরাফ আলী রহ. আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার আদর্শ বেঁচে আছে। তিনি খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। তিনি সকলকে সহজে আপন করে নিতেন। তিনি ভারতে মুসলিম গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন কোনো মুসলমানের খুনিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com