২৭শে মে, ২০২০ ইং , ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী

ধরা খাবে সব জুলুমবাজ

ধরা খাবে সব জুলুমবাজ

মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ আজ মিরপুর থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ গ্রেপ্তার হয়েছে। করোনা ভাইরাসের এই বিষাদভরা দিনগুলোতে এটা আমার কাছে বিরাট খুশির সংবাদ। বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু।  তিনি জন্মেছেন বলে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বিধায় আমি স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে স্বাধীনভাবে বুক ভরা নিশ্বাস নিতে পারছি আলহামদুলিল্লাহ।

যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে না, সে মহান আল্লাহ পাকের কৃতজ্ঞতা কিভাবে আদায় করবে? প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেকার এক ভাষন আজও আমার কাছে জীবন্ত। বিষ্ময়কর এক ভাষণ! যে ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার স্তম্ভ, আমাদের জাগ্রত হওয়ার হাতিয়ার। রাসূল (সা.) সত্য ও যথার্থ বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু বক্তৃতায় যাদু আছে।

ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুরাও তাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি।

হ্যাঁ! আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে যাদু ছিল। আজো তন্ময় হয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনি এবং মনে হয় আমিও রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হওয়া স্বাধীনতার নেশায় বুদ হয়ে থাকা এক বাঙালী। গোপালগঞ্জে  আমার জন্ম এখানেই আমার বাস। গর্ব করার অনেক কিছু আছে আমার। আমাদের প্রিয় নেতার জন্মও যে এই গোপালগঞ্জে! শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় তাঁর জন্য অন্তর থেকে দোআ বের হয়।

বাঙালী জাতী অকৃতজ্ঞ বলে একটা নাম আছে। সে নাম রাখতে যেয়ে পঁচাত্তরের কালরাত্রিতে একদল গাদ্দার, নেমকহারাম দেশ ও জাতীর শত্রু বাংলাদেশের মহানায়ককে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। ছোট্ট ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুরাও তাদের নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। স্বাধীনতা বিরোধী একটি মহল ছল চাতুরতায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেয়।ওরা ভেবেছিল শেষ, শেখরা গোষ্ঠীসুদ্ধ শেষ!  অথচ ওরা জানেনা বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ!

ইতিহাস ঘুরে ফিরে বারবার আসে। হ্যাঁ! ইতিহাস ঘুরে ফিরে আবার আসল। তবে জালিম হয়ে নয় বরং মজলুমের বিচার করতে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি দিতে।কয়েকজন গাদ্দার, দেশদ্রোহীকে ফাঁসি দেওয়া হল। কয়েকজন পালিয়ে থাকল অন্যরাষ্ট্রে দয়ায়, ভিক্ষায়। শেষ কথা হল কোন জুলুমবাজই বাঁচতে পারবে না। সবাই ধরা খাবে। ব্যবধান শুধু একদিন আগে আর পরের। ক্যাপ্টেন মাজেদ তার জলন্ত প্রমাণ। আমাকে সুযোগ দিলে ওর কানের নিচে দুটো থাপ্পড় মেরে আসতাম। আর বলতাম তোদের মত  গাদ্দার, দেশদ্রোহী আর জুলুমবাজদের কারণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষরা স্বাধীন ভাবে চলার অধীকার হারিয়েছে অথচ ওরা স্বাধীন রাস্ট্রের নাগরিক!

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির সাথে সাথে যারা জনগণের প্রতিনিধি হয়েও জনগণের ত্রাণের চাল-ডাল, কাথা-কম্বল, লেপ-তোষক, পর্দা-বালিশ, টিন, বাঁশ মেরে খায় ওরা শুধু জনতার শত্রু নয়; বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের ও জাত শত্রু। ওদেরকে ফাঁসিতে চড়ানো সম্ভব না হলেও জনতার সামনে জুতোর বাড়ি ও আজীবনের জন্য নৌকার টিকেট বরাদ্দ বাতিল করলে আমাদের প্রিয় মহান  নেতা। বাঙালীর প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে বলে আমি মনে করি। দেশ ও দশের জন্য আর মাত্র কয়েকটি দিন ঘরে থাকুন, সবাইকে বাঁচতে দিন। ভাল থাকুক বাঙালি, ভাল থাকুক বাংলাদেশ।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com