২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ইন্তেকালে কওমি অঙ্গনে শোকের ছায়া

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ইন্তেকালে কওমি অঙ্গনে শোকের ছায়া

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভয়াল করোনার থাবায় আলেমবান্ধব ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ইন্তেকালে দেশের ধর্মীয় ও কওমি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী এ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত দেশের শীর্ষ আলেমরা।

শেখ আবদুল্লাহ ছোটবেলা থেকেই পেয়েছিলেন হজরত শামসুল হক ফরিদপুরীর সান্নিধ্য। গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসাতেই শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তার। মক্তবের প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে হিফজখানায়ও ভর্তি হয়েছিলেন। কয়েক পারা হিফজ করার পর চোখে সমস্যা হলে ছদর সাহেব হুজুরের পরামর্শেই তিনি স্কুলে চলে যান। জীবনের শুরু থেকে ছদর সাহেবের সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল, হুজুরের মৃত্যু পর্যন্ত তার পরামর্শেই চলেছেন।

আল্লামা আহমদ শফীর শোক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমের শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি সবাইকে সবরে জামিল দান করার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে হেফাজত আমীর বলেন, তিনি নিজ জেলার গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আলেম আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরীর (রহ.) কাছে পবিত্র কুরআন হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। একই মাদ্রাসায় কওমি ধারায় পড়ালেখা করেন। তিনি কওমি মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রেখে চলতেন। তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতেন।

আল্লামা শফী বলেন, শেখ আবদুল্লাহ দেশের ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শীর্ষ আলেমদের পরামর্শক্রমে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে তাবলিগ জামাতের বিরোধ, ইজতেমা, করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনাসহ অনেক বিষয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর মাধ্যমে একজন আলেমভক্ত রাজনীতিবিদকে হারালাম।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর শোক : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

রোববার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ একজন উদার মনের মানুষ ছিলেন। মসজিদ-মাদ্রাসা ও আলেমদের সঙ্গে ছিল তার সুসম্পর্ক। ওলামায়ে কেরামকে তিনি অনেক বেশি সম্মান ও মুহাব্বত করতেন। ওলামায়ে কেরামের প্রতি তিনি ছিলেন যথেষ্ট আন্তরিক।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ইসলাম,মুসলমান, ওলামায়ে কেরাম ও কওমি মাদ্রাসার জন্য তিনি যে সব কল্যাণের কাজ করেছেন মহান প্রভুর দরবারে এর উত্তম বিনিময় পাবেন।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের শোক : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, আমার দেখা একজন সহজ ও সরল রাজনীতিবিদ ছিলেন শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এক অকৃত্রিম বন্ধুকে আমরা হারালাম। তিনি নিজে যেমন কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন, তেমনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি নিজেকে মুসলিম উম্মাহর যে কোনো সেবায় নিয়োজিত করতে চাইতেন।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, গত হজের সফরে সদ্য প্রায়ত শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ দেশের শীর্ষ আলেমদের প্রতি নিজের যে আবেগ, আন্তরিকতা, হৃদ্যতা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা এর আগের কোনো ধর্মমন্ত্রী বা ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দেখাতে সক্ষম হননি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমীর শোক : গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, মরহুম ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলেম-উলামা ও ধার্মিক মানুষদেরকে ভালোবাসতেন। তিনি সজ্জন ও সদালাপী ছিলেন এবং সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, ধর্ম সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে তিনি আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন এবং আলেম-উলামাগণও মন খুলে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে। তার ইন্তিকালে আমি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।

মাওলানা মাহমুদুল হাসানের শোক : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর, গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব ও জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ির প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা একজন ভালো মানুষকে হারালাম। শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছিলেন একজন নিরঙ্কুশ ভালো মানুষ। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে গভীর হৃদ্যতা ছিল তার। তিনি আলেম-ওলামাদের ভালোবাসতেন। সুন্নতকে ভালোবাসতেন। মজলিসে দাওয়াতুল হকের কাজ করতে ভালোবাসতেন।

তিনি মজলিসে দাওয়াতুল হকের ইজতেমায় একাধিকবার এসেছেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে তিনি আলেম-ওলামাদের সোহবতে ধন্য হয়েছেন। তিনি আরেও বলেন, স্বল্প সময়ের মন্ত্রিত্বে থেকেও তিনি ধর্মীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। তার সঙ্গে আমার ধর্মীয় অনুরাগ ছিল অকৃত্রিম। ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে তিনি আমার পরামর্শ নিতেন।

মুফতি রুহুল আমীনের শোক : গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মুহতামিম ও খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমীর পীরে কামেল মুফতি রুহুল আমীন বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি আলেমদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ রেখে চলতেন। আলেমরাও তাকে শ্রদ্ধা করতেন।

মুফতি রুহুল আমীন আরও বলেন, তিনি ছিলেন আমার বাবা মোজাহেদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী সদর সাহেব রহ.-এর বিশেষ শিষ্য এবং গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার ছাত্র। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসায় এসে সবার দোয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু করেন।

তিনি সব কাজ আমি এবং আলেম-উলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্পন্ন করতেন। আমাদের মাঝে গভীর সম্পর্ক ছিল। আমরা দু’জন ভাইয়ের মতো চলাফেরা করতাম। তার ইন্তেকালে আমি এবং দেশের আলেম-উলামারা একজন অভিভাবক হারালাম, কল্যাণকামী বন্ধু হারালাম। তার এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com