১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

‘নবী-রাসূলের মাঝে একমাত্র আমার নবীজীই রাহমাতুললিল আলামিন’

‘নবী-রাসূলের মাঝে একমাত্র আমার নবীজীই রাহমাতুললিল আলামিন’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সমস্ত নবী-রাসূলের মাঝে একমাত্র আমার নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই রাহমাতুল্লিল আলামিন খেতাব পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে লাখো নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, আদম আ., নূহ আ., দাউদ আ., মূসা আ., ঈবরাহিম আ., ঈসা আ.-এর মত বড় বড় নবী-রাসূল ও প্রেরণ করেছেন, কিন্তু কাউকেই রাহমাতুল্লিল আলামিন খেতাব দেননি, একমাত্র আমার নবীজীকে আল্লাহ বিশ্বজগতের হেদায়ত ও নাজাতের জন্য রাহমাতুল্লিল আলামিন বানিয়ে পাঠিয়েছেন।

আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে নবীজীর আমলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে হবে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে নবীজীর আমলের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি নবীজীর মাত্র একটা আমল পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করে, তাহলে আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে ভালোবাসতে শুরু করবেন।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বাদ এশা মিরপুর-১৩ দারুল উলুম মাদরাসা আয়োজিত কাফরুল, পুরাতন বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার ইসলাহী মাহফিলে আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলিফা, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর মত করে নবীজীকে ভালোবাসতে হবে জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, সাহাবায়ে কেমার নবীজীকে কতটা ভালোবাসতেন তার কোন নমুনা বা নিজর পেশ করা সম্ভব নয়। সাহাবায়ে কেমার নবীজীকে নিজেদের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। আমাদের ঈমান শুধু তখনই সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে, যখন আমরা সাহাবায়ে কেমারামের মত নবীজীকে ভালোবাসবো, নবীজীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা পৃথিবীর সবকিছু, এমনকি আমাদের নিজ জীবন অপেক্ষা অধিক হবে।

যে যাকে ভালোবাসে তার সাথে তার কিয়ামত হবে উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, নবীজীকে ভালোবাসতে হবে, নবীজীকে ভালোবাসলে নবীজীর সাথে আমাদের কিয়ামত হবে। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত ‘আল মারউ মা’আ মান আহাব্বা’ হাদীসের শানে উরুদও বর্ণনা করেন তিনি।

নবীজীর নূরে নূরান্নীত হতে চাইলে দরূদ শরীফ পড়তে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দরূদ শরীফের মাঝে আল্লাহ তাআলা যে নূর রেখেছেন, অন্য কোন আমলের মধ্যে এই নূর নেই। দরূদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ।

বাতাসে আল্লাহ ও তার নামের জিকিরের শুদ্ধতা ছড়িয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, প্রত্যেটা গুণাহের কাজেরও আলাদা আলাদা দুর্গন্ধ আছে। মানুষ যখন মিথ্যা বলে, গীবত করে, জিনা-ব্যভিচার করে, বিভিন্ন ধরনের গুণাহে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের শরীরে, বাতাসে এসব পাপাচারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আমাদের সমাজের বাতাসে পাপাচার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির করে, বাতাসকে ভারী করার আহ্বান জানান তিনি।

ইসলাহী মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী, জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মিরপুর-১৩ দারুল উলুম মাদরাসায় মুহতামিম মুফতি রেজাউল হক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মিরপুর-১৩ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি রিয়াজুতুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা জায়নাল আবেদিন, মাওলানা মতিউর রহমান, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা শোয়াইব আহমদ, প্রমুখ।

ইসলাহী বয়ানের পর প্রোগ্রামে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com