১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নাকানি-চুবানি খায়নি কে! কি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে

স্পোর্টস ডেস্ক ● আর মাত্র দুই ম্যাচ। ২৬ ও ২৯ অক্টোবর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ফেললেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুঃস্বপ্নের এই সিরিজ শেষ করবে বাংলাদেশ। গত দুই বছরের সুসময় শেষে দেশের ক্রিকেটে অশনিসংকেত শোনা যাচ্ছে। চায়ের দোকান, কি অফিস রুম, ক্রিকেটারদের মু-ুপাত করা হচ্ছে সবখানেই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এমন ফল কি অবশ্যম্ভাবী ছিল না? নিজেদের উঠোনে প্রোটিয়ারা সব সময়ই দুর্দান্ত। অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের হিসাব নিলেই সেটা বোঝা যাবে। ২০১৩ সালে পাকিস্তান যা একটু লড়াই করে এসেছিল। উপমহাদেশের প্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে ওয়ানডে সিরিজ জিতে এসেছিল। এরপর যে দলই সেখানে গেছে, টেস্ট, ওয়ানডে কি টি-টোয়েন্টি, সব সিরিজে নাকানিচুবানি খেয়ে এসেছে।

ভারত

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রতাপশালী ভারতীয় দল। টিম ইন্ডিয়া তখন দারুণ ছন্দে, ছয় মাস আগেই ইংল্যান্ডে জিতেছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। পূর্ণ শক্তির ভারতীয় দলকেও মাটিতে নামিয়েছিল প্রোটিয়ারা। ওয়ানডেতে ২-০ আর টেস্টে ১-০-তে সিরিজ জিতেছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্সরা। ৩ ম্যাচে ৩৪২ রান করে ওয়ানডেতে সিরিজসেরা হয়েছিলেন কুইন্টন ডি কক। টেস্ট সিরিজসেরা ডি ভিলিয়ার্স, ৩ ইনিংসে রান করেছিলেন ১৯০।

অস্ট্রেলিয়া

ফেব্রুয়ারি ২০১৪-তে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলতে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। দুটো সিরিজই জিতেছিল মাইকেল ক্লার্কের দল। মাইকেল ক্লার্ক আর মিচেল জনসনের তোপে ২-১ ও ২-০ ব্যবধানে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছিল গ্রায়েম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৬-তে এসে পূর্বসূরির সেই হারের প্রতিশোধ নিয়েছেন ফাফ ডু প্লেসি। ৫-০ ব্যবধানে স্টিভেন স্মিথের অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। সিরিজসেরা হয়েছিলেন রাইলি রুশো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

২০১৪-১৫-র সেই সিরিজে তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নিয়ে খেলেছিল দুই দল। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিলেন ২-১ ব্যবধানে, ক্রিস গেইলের সৌজন্যে। কিন্তু দীনেশ রামদিনের টেস্ট দলকে ২-০-তে ধোলাই করেছিলেন আমলা, ৩ টেস্টে ৩৪২ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন প্রোটিয়া দলপতি। আর নতুন ওয়ানডে কাপ্তান জেসন হোল্ডারকে দুঃস্বপ্নের এক সিরিজ উপহার দিয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ৪-১-এ জেতা সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড করেছিলেন ‘মি. ৩৬০’। তবে ৮২.৬ গড়ে ৪১৩ রান করে ওয়ানডেতেও সিরিজসেরা হন আমলা।

নিউজিল্যান্ড

কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড দল সফর করেছিল ২০১৫ সালের আগস্টে। মার্টিন গাপটিলের সিরিজ সর্বোচ্চ ১০২ রানের কল্যাণে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ড্র করতে পারলেও হারতে হয়েছিল ওয়ানডেতে। আমলা ও ইমরান তাহিরের নৈপুণ্যে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলেন ডি ভিলিয়ার্সরা।

ইংল্যান্ড

২০১৫-১৬-তে অ্যালিস্টার কুক আর এউইন মরগানের ইংল্যান্ড দল আসে আফ্রিকায়। বেন স্টোকসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানের জয়ও পায় সফরকারীরা। কিন্তু সীমিত ওভারে সেই দাপুটে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩-২ ও ২-০ ব্যবধানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে স্বাগতিকেরা।

শ্রীলঙ্কা

২০১৬-১৭ মৌসুমের প্রথম দল হিসেবে আফ্রিকান সাফারিতে এসেছিল লঙ্কানরা। ওয়ানডেতে ৫-০ আর টেস্টে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস-উপুল থারাঙ্গারা। তবে নিরোশান ডিকভেলার ব্যাটে (সিরিজে ১৩৪ রান) টি-টোয়েন্টিতে ২-১ ব্যবধানে জেতে শ্রীলঙ্কা।

কোনো সন্দেহ নেই, এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের এমন পারফরম্যান্স লজ্জাজনক। কিন্তু মুশফিক, তাসকিনদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময় দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্সটাও মাথায় রাখা উচিত। পরিসংখ্যানই তো বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় জেতা সহজ নয় মোটেই। অবশ্য বাংলাদেশের খেলায় লড়াইয়ের ছিটেফোঁটাও ছিল না, একেবারে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ; এটাই বেশি হতাশ করেছে সমর্থকদের।

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com