২৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং , ১৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২রা জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতীয় সাংবিধানিক চেতনাবিরোধী : হিন্দ জমিয়ত

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতীয় সাংবিধানিক চেতনাবিরোধী : হিন্দ জমিয়ত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা কারী সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ উসমান মানসুরপুরী ও জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী হতাশা ব‌্যক্ত করে বলেছেন, লোকসভায় সংখ্যার নিরিখে পাস হওয়া এ বিল ভারতীয় সাংবিধানিক চেতনাবিরোধী।

তারা বলেন, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর সংশোধন অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের মূল বিধান ১৪-১৫-এর সাথে পাস হওয়া এই আইনটি সাংঘর্ষিক। আইনের দৃষ্টিতে যেটা একাধারে বর্ণ, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে বৈষম্যের অনুমতি দেয় না।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারি এই সংশোধনীকে ভারতীয় আইনবিরোধী উল্লেখ করে আশা ব্যক্ত করে বলেন, রাজ্যসভায় তা তেমন সমর্থন পাবে না, এবং কোন ফলাফল বয়ে আনবে না।

যারা ভারতের আইন ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে তাদের উদ্দেশ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপনার পূর্ণ শক্তি দিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে সংসদে যখন এই বিল পাস হয়, ঠিক সেই সময়ে খড়গপুরের সরকারি সভা থেকে এর প্রতিবাদে ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, সিটিজেন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এবং এনআরসি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জনগণকে আবারো অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আশ্বস্ত করলেন, কাউকে দেশছাড়া হতে হবে না।

মমতা ব্যানার্জি বারবার আসামে এনআরসি প্রসঙ্গ তুলেই বারবার কেন্দ্রকে আক্রমণ করে এসেছেন। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। আসামে ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়েছে, এই উদাহরণ সামনে রেখে খড়গপুরের সভাতেও মমতার হুঁশিয়ারি, এনআরসি বাংলায় হতে দেব না। ভাগাভাগি করতে দেব না। কাউকে তাড়ানো যাবে না। এনআরসি নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, আমরা যতদিন আছি, এসব হবে না।

এদিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘সংবিধানে ‘নাগরিকত্ব’কে ধর্মের সাথে যুক্ত করা হয়নি। এই প্রথম এমন ঘটছে যখন বিজেপি সরকার তার আসল চেহারা দেখাচ্ছে!’ ওয়াইসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করছেন, সংবিধানের নয়। এটি সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন!’

ওয়াইসি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি আসবে, এরমধ্যে ‘যারা মুসলিম নয়’ তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব পাবে। এবং মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয় বরং রাষ্ট্রহীন করতে চাচ্ছে। মোদী সরকার দেশকে বিভক্ত করার কাজ করছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com