১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১লা সফর, ১৪৪২ হিজরী

নাগালের কাছাকাছি পেঁয়াজ, দাম ১০০-১২০

নাগালের কাছাকাছি পেঁয়াজ, দাম ১০০-১২০

পাথেয় রিপোর্ট :: নতুন পেঁয়াজ আসায় রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের পেঁয়াজের ঝাঁজ কমা শুরু হয়েছে। রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের সেই যে আগুন তা আর নেই। কমতে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকগণ বলছেন, এখন দ্রুত পেঁয়াজ আরও কমতির দিকে যাবে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি স্বস্তি আসতে শুরু করেছে সবজিতেও। টমেটো, গাজর, শিমসহ বেশকিছু সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২২০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজেরও দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকা কেজিতে।

আর বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০-১২০ টাকা। তবে গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো বাজারে পাতাসহ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাতাসহ পেঁয়াজের কেজি ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে রামপুরা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী জহির বলেন, আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে এখন নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এ কারণে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। আমাদের ধারণা, সামনে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে।

তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে ২৫০ টাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনতেন। দাম কমায় এখন কিছুটা হলেও মানুষের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। আগে যারা ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনতেন আজ তারা আধা কেজি, এক কেজি করে কিনছেন।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নোয়াব আলী বলেন, ‘বাজারে এখন সব ধরনের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। পেঁয়াজের দাম কমেছে, কিছুদিনের মধ্যে আরও কমবে।’
পেঁয়াজের দাম কমায় ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, ‘১০০ টাকা দিয়ে এখন এক কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এটি অকল্পনীয় ছিল। যাই হোক পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় আসায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছি। তবে পেঁয়াজের দাম আরও কমা উচিত।

এদিকে শীতের শাক-সবজি ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, শালগম, শিম, পালং শাক, মুলার শাক, সরিষা শাকের সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি কমেছে শিম, পাকা টমেটো ও গাজরের। কিছুদিন আগেও ১০০ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি হওয়া এ সবজিগুলো এখন অনেকটাই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন আসা লম্বা শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা।

বাজার ও মানভেদে দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। আমদানি করা পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা। টমেটোর পাশাপাশি দাম কমেছে গাজরের। কিছুদিন আগে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজর এখন ৪০-৫০ টাকার মধ্যে।

টমেটো, শিম, গাজরের দাম কমলেও এখনো বেশকিছু সবজির দাম চড়া রয়েছে। বাজার ও মানভেদে নতুন গোল আলুর কেজি গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটির কেজি ৬০-৮০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আগের সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা পিস। পেঁপেও ৩০-৩৫ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-৩০ টাকার মধ্যে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। করলা আগের মতো ৫০-৭০ টাকা।

মালিবাগের বাসিন্দা রুবেল বলেন, ‘পাকা টমেটো, গাজর, শিমের দাম কমায় কিছুটা হলেও ভালো লাগছে। কিন্তু বাকি সবজিগুলোর দাম তো এখনো বেশ চড়া। অথচ বাজারে কোনো সবজির অভাব নেই। বাজারে যে হারে সবজি আসছে তাতে সবজির দাম আরও কমা উচিত।’

রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, ‘টমেটো, গাজর, পেঁয়াজের দাম যখন কমেছে। শিগগিরই অন্যান্য সবজির দামও কমবে। আমাদের বিশ্বাস সবজির দামে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com