২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৯ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

নারী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীন, প্রেক্ষিত বিশ্ব

সীমানা পেরিয়ে । চৌধুরী আতিকুর রহমান

নারী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীন, প্রেক্ষিত বিশ্ব

পাদ্রী ও বিশপরা শিশু যৌনতায় সিদ্ধহস্ত হয়েও তাদের কোন শাস্তি হয় না, তার উদাহরণ হল ফাদার জর্জ কে। যদিও এই নামটি আসল নাম নয়, তথাকথিত খোলা মেলা সমাজে সমাজপতিদের কুকির্তী গুলো ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয় এবং আমাদের মত দেশগুলিকে বলা হয় এই দেখ আমরা বাকস্বাধীনতা, সমতা, চিন্তার মুক্তিতে বিশ্বাসী।

জানুয়ারি ২০১০-এ ১৯ বছর বয়স্ক ক্রিস্টোফার -এর পিতা হেইনার স্পিতজ দক্ষিণ আফ্রিকা ডাইয়োসিসে একটি চিঠি পাঠিয়ে বললেন, এই বিশপ তাঁর পুত্রের সঙ্গে ১০ বছর বয়স থেকে যৌন অত্যাচার করে ২০০৭-এ মুক্তি দেয়। ক্রিস্টোফার যে সকল অপরাধের খতিয়ান দিয়েছে তা হল,

১) গির্জার শিক্ষার্থী বালকদের সিগারেট ও হাসিসের নেশা ধরানো হয়েছে,
২) উষ্ণ স্নানের সময় অযথা আদর করা হয়,
৩) মদ্যপানে অভ্যস্ত করানো হত,
৪) কোন একটি বালক কে আদর করতে করতে বিছানায় শুইয়ে দিত,
৫) যাজকের কম্পিউটারে প্রচুর যৌন উত্তেজক ছবি মজুদ থাকত,
৬) যাজকটি যৌনক্রিয়ার ছবি ও ভিডিও তুলে রাখত।

জর্জ কে যেহেতু কোন দিনই আদালতে শাস্তি পাননি তাই জার্মান আইনে তার প্রকৃত নাম ব্যবহার শাস্তি যোগ্য। এই পাদ্রীটি জার্মানির রোমান ক্যাথলিক আচেন ক্যাথিড্রালের যাজক ছিলেন, যেখানে শার্লামেনের কবর রয়েছে। এই বিশপকে তাঁর সমস্ত অপরাধ গোপন করে পদোন্নতি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ডায়ওসিসে পাঠানো হয়।

আচেলের বিশপ হেইনরিখ মাসিংহফ বলেন, আমরা মামলাটির সার্বিক তদন্ত করব এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হবে। সার্বিক তদন্ত মানেই হলো সমস্ত অপরাধকে ধামাচাপা দেবার অজুহাত স্ট্রবেরি জানো দেশের আইনের দ্বারস্থ হওয়া থেকে অন্তত সামরিক বিরত থাকে। যখন কে ধামা ক্রিস্টোফারের পিতা পুলিশের কাছে মামলাটিকে উপস্থিত করার পরিকল্পনা করেন। এই সময়ে আচেন থেকে জর্জ দক্ষিণ আফ্রিকায় বদলির নোটিশ পান। দেখা গেল পুলিশকে খবর দিতে দেওয়া হলো না, কোনরকম তদন্ত হলো না, এমনকি সিডি ও অন্যান্য যৌন উদ্দীপক ছবির জন্যে কে’র গৃহে তল্লাশিও হল না। মাসিংহফ তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা চালানে সুব্যবস্থা করার পরও ভ্যাটিকান উত্তর দিল এটা একক ব্যক্তির সমস্যা রোমান ক্যাথলিক প্রোতিষ্ঠানটির কোন সমস্যা নয়। সেমীয ( Semitic) ধর্মগুলোর আলোকে উপরের অপরাধের খতিয়ান থেকে বলা যায় দুইটি নর-নারীর মধ্যে অবৈধ যৌন সংসর্গই হল একটি চরম অপরাধ। যাজকেরা এই অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে আরো একটি জঘন্য অপরাধ, সমকামেও লিপ্ত হয়। সমকাম সম্বন্ধে কুরআন ও বাইবেল উভয় গ্রন্থেই শাস্তির কাহিনী বিদ্যমান, যার জীবন্ত নমুনা হল জর্ডানের মরুসাগর। এখন প্রশ্ন প্রচলিত খ্রিস্টধর্মকে আর প্রকৃত সেমীয় ধর্ম বলা যাবে কিনা? স্বয়ং ধর্মরক্ষকরা যখন এই অপরাধের সঙ্গে ব্যাপক ভাবে যুক্ত, যার যখন কোন বিচার নেই, তখন সেমীয় হওয়ার বিষয়টি বর্তমান খ্রিস্টধর্মের ক্ষেত্রে বেশ প্রশ্নবাচক।

ভারতে বা বিদেশে ঈশ্বরের প্রতিভু বলে যাদের বিশ্বাস করা হয় তারাই প্রচুর ক্ষমতা ও অর্থ বলে সাধারণ বিপদগ্রস্ত শিশু ও নারীদের লালসার শিকার বানায়। এই হল স্বাধীনতার রূপ। ভারতবর্ষের সর্বাপেক্ষা উচ্চ আয় যুক্ত প্রদেশ ও নগর এলাকায় সমীক্ষা থেকে নারী (বালিকা) ও পুরুষ (বালক) অনুপাতটি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যতই প্রচার করা হোক গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষের মধ্যেই কন্যাভ্রূণহত্যার মত জঘন্য কার্যকলাপ প্রচলিত, তা অবশ্যই সত্য নয়। কন্যা ভ্রূণহত্যার পীঠস্থান বলা যেতে পারে উত্তর-পশ্চিম ভারতের জাঠ ও রাজপুত অধ্যুষিত এলাকাগুলি। এই সকল এলাকায় কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করা হয়।

কর্নাটকের বিদাদির ধ্যানপিতম আশ্রমের সন্ন্যাসী স্বামী নিত্যানদ প্রাচীন তান্ত্রিক ধর্মের প্রতিষ্ঠাকল্পে দেহস্পর্শ, নগ্নতা ও যৌনক্রিয়ার আশ্রয় নেয়। নিত্যানন্দ এক অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌনক্রিয়ার সময় ক্যামেরাবন্দী হয়। যে সকল ব্যক্তি প্রাচীন তান্ত্রিক শিক্ষালাভের জন্য অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতেন তাদের গোপনীয়তা রক্ষার একটি সম্মতিপত্রে সই করতে হত। সিআইডি এই গোপনীয়তা রক্ষার সম্মতিপত্র এবং বহু সিডি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে যা তদন্তের সুবিধা করবে। এক উচ্চপদস্থ সিআইডি অফিসার বলেছেন, যারা এই কর্মসূচির জন্য নাম লিখিয়েছে তাদের অধিকাংশই নারী এবং এরা হয় স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা এখানে নাম লেখার পর পরিত্যক্তা হয়েছে। ৯০% উপর নারী তামিলনাড়ুর এবং বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিতা অথবা বিদেশে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূতা। এক সিডিতে দেখা গিয়েছে একই সঙ্গে পাঁচটি নারীর সঙ্গে নিত্যানন্দ যৌনক্রিয়ায় রত। নিত্যানন্দর যৌনক্রিয়া রত পঁয়ত্রিশটি ভিডিও ক্লিপিং পাওয়া গিয়েছে। এই সম্মতিপত্রের একটি অনুচ্ছেদ TOI যেভাবে বর্ণনা করেছে তা হল- স্বেচ্ছাসেবকগন জানেন যে এই কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে প্রাচীন তান্ত্রিক জ্ঞান শিক্ষালাভ ও বাস্তব প্রয়োগ এবং গোপনীয়তা। এই উদ্দেশ্যেই পুরুষ ও স্ত্রী লোকের তীব্র যৌন উন্মাদনা, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি/আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি, চরম আনন্দ, ঐক্য এবং স্বাধীনতার জন্য যৌনতা উদ্ভূত শক্তি ব্যবহৃত হবে।

স্বেচ্ছাসেবক গান জানেন যে এই কর্মসূচি আস্তে করো দৈহিক ও মানসিক ভাবে আপত্তিকর এবং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নগ্নতা, ক্যামেরা দৃশ্য, গ্রাফিক্স, নগ্ন দেহ ও যৌনক্রিয়ার বর্ণনা, গভীর দৈহিক সম্বন্ধ ও একতা, মৌখিক ও লিখিত বর্ণনা এবং যৌনতা সংশ্লিষ্ট প্রেম ও আশ্লেষের শব্দ। তথাকথিত বাপু আশারাম ও তাঁর পুত্রের কীর্তিকলাপ বেশ ফলাও করে ছাপানো হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com