১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

নাৎসি ক্যাম্প সফরে যাচ্ছেন মুসলিম ও ইহুদি নেতারা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বের সর্ববৃহৎ নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প পোল্যান্ডের আউশভিৎস৷ ক্যাম্পটি মুক্ত হওয়ার ৭৫ বছরে সফরে যাচ্ছেন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ আল ইসা৷ সঙ্গে থাকছেন অ্যামেরিকান ইহুদি কমিটির পরিচালক ডেভিড হ্যারিস৷

জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইহুদিবিদ্বেষের হুমকি মোকাবিলা করছে৷ এমন এক পরিস্থিতিতে এই সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে৷ সফরটি বিশ্বজুড়ে আন্তধর্ম যোগাযোগ এবং সহনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অনেকে৷

সাবেক এই ক্যাম্পে আরব বিশ্ব থেকে খুব বেশি মানুষ আসেন না৷ আউশভিৎসের পরিচালক পিওত্র চিভিনস্কি জানান ২০১৯ সালে ২৩ লাখ মানুষ এই স্মৃতি দেখতে এসেছেন৷ কিন্তু টিকেট বিক্রির তথ্য থেকে দেখা যায়, কেবল ৩২০০ পর্যটক এসেছেন আরব দেশগুলো থেকে৷ অবশ্য এসব পর্যটকের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত নয় কর্তৃপক্ষ৷ তবে চিভিনস্কি জানান ফ্রান্স, নরওয়ে, জার্মানি এবং অন্যান্য দেশ থেকে বেশ কিছু মুসলিম এই সংরক্ষিত ক্যাম্পটি দেখতে আসেন৷

বৃহস্পতিবার আউশভিৎস সফরে আসবেন শেখ মোহাম্মদ আল-ইসা৷ তিনিই হবেন ক্যাম্পটিসফর করা সবচেয়ে বড় কোনো মুসলিম ব্যক্তিত্ব৷ তার মুসলিম ওয়ার্ন্ড লিগ বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি মুসলিমকে প্রতিনিধিত্ব করে৷ ৫০ বছর বয়সি সৌদি আরবের সাবেক এই বিচার মন্ত্রী সঙ্গে থাকবেন হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া পরিবারের সন্তান ৭০ বছর বয়সি ডেভিড হ্যারিস৷ হ্যারিস অ্যামেরিকান ইহুদি কমিটির পরিচালক৷

দুবছর আগে আল-ইসা ওয়াশিংটনের ইউনাইটেড স্টেটস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে একটি চিঠি লেখেন৷ চিঠিতে হলোকাস্টের শিকার মানুষদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি এবং উল্লেখ করেন এই ঘটনা ‘মানবতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে’৷ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার ইসলাম এমন অপরাধের বিপক্ষে’ এবং ‘হলোকাস্ট বা এর প্রভাব অস্বীকার করাকে আমরা ইতিহাস বিকৃতি বলে মনে করি এবং যেসব নিরপরাধ আত্মা এর শিকার হয়েছে তাদের প্রতি অপমান বলে মনে করি’৷

২০১৮ সালের মে মাসে জাদুঘরটি সফরের পর আল-ইসা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে একটি উপ-সম্পাদকীয় লেখেন৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজের চোখে ভিডিও, ছবি, প্ল্যাকার্ড, সাক্ষাৎকার ও স্মারক দেখেছি, এর সবই হলোকাস্টের সাক্ষ্য প্রমাণ বহন করে৷ হলোকাস্টের বিশালতা বুঝতে কারো জাদুঘরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না৷ কিন্তু জাদুঘরটিতে যারা যাননি তাদের পক্ষে এটি ঘটেনি, এমন কথা বলা অসম্ভব৷”

লেখাটিতে তিনি ‘সকল মুসলিমকে হলোকাস্টের ইতিহাস জানা, স্মৃতিস্মারক এবং জাদুঘরগুলো ভ্রমণ করার’ আহ্বান জানান৷

সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিমস ইন জার্মানি সংগঠনের চেয়ারম্যান আইমান মাজিয়েক বেশ কয়েকবার মুসলিম ও ইহুদি ধর্মাবলম্বী তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আউশভিৎস ঘুরে এসেছেন৷ আল-ইসার নেয়া উদ্যোগ রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি৷

মাজিয়েক মনে করেন, এই সফর এবং আল-ইসার উদ্যোগ অনেক মুসলিম দেশের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে৷ তিনি মনে করেন, আউশভিৎস শিক্ষা দেয় যাতে এমন কিছু ‘আর কখনও’ ঘটতে দেয়া না হয়, এবং সেটি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদেরও মনে রাখতে হবে৷

সূত্র : ডয়েচ ভেলে

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com