১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক ● ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ও নিজেদের দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ডের কাছে ম্যাচে ৪ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ। ডাবলিনের ক্লোনটার্ফে প্রথমে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ২৫৮ রান তুলে জয়ের স্বাদ নেয় নিউজিল্যান্ড।

টস হেরে ব্যাটিং-এ নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার ৭২ রানের জুটি এনে দেন। এজন্য দু’জনে খেলেছেন ৯২টি বল। ৪২ বলে ২৩ রান করে তামিম ফিরে গেলে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তামিমকে হারানোর ৭ রান পরই আবারো উইকেট হারানোর ধাক্কা খেতে হয় বাংলাদেশকে। মাত্র ১ রানে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমান। এতে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ দূর করে সৌম্য ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম।

চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলের সংগ্রহ বাড়িয়েছেন সৌম্য ও মুশফিক। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান সৌম্য। ৭ ইনিংস পর আবরো হাফ-সেঞ্চুরির পাওয়া সৌম্য অবশেষে থামেন ৬১ রানে। তার ৬৭ বলের ইনিংসে ৫টি চার ছিলো।

এরপর উইকেটে গিয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি সাকিব আল হাসান। মাত্র ৬ রান করেন তিনি। সৌম্যর সাথে তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রান যোগ করা মুশফিকও ‡পয়েছেন হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ। ২৪তম অর্ধশতক পাওয়া ইনিংসে ৫৫ রানে থামেন মুশি। তার ৬৬ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদুল্লাহ’র সাথে ৫১ বলে ৪৯ রান যোগ করেন মুশি।

মুশফিকুরের বিদায়ের পর ৩৮তম ওভারে দলের হাল ধরেন মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক। বেশ মারমুখী মেজাজেই খেলছিলেন তারা। এতে লড়াকু স্কোর পাবার স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে লড়াকু স্কোরই এনে দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ ও মোসাদ্দেক। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনের ৬১ বলে ৬১ রানের জুটিতে ৯ উইকেটে ২৫৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ ৬টি চারে ৫৬ বলে ক্যারিয়ারে ১৭তম হাফ সেঞ্চুরি পুর্ন করে ৫১ ও মোসাদ্দেক ৪টি চারে ৪১ বলে সমান ৪১ রান করেন।

নিউজিল্যান্ডের হামিশ বেনেট ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন।

জবাবে শুরুটা ভালোই করেছিলো নিউজিল্যান্ড। ৩৯ রানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার অধিনায়ক টম লাথাম ও উইকেটরক্ষক লুক রঞ্চি। ব্যক্তিগত ২৭ রানে রঞ্চিকে থামিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

প্রথম উইকেট শিকারের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সাফল্য পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ১৭ ওভার পর্যন্ত। তিন নম্বরে নামা জর্জ ওরকারকে রান আউটের ফাঁেদ ফেলেন বাংলাদেশের সাব্বির রহমান। আউট হওয়ার আগে ১৭ রান করেন ওরকার।

এরপর লাথামের সাথে জুটি বাঁধেন রস টেইলর। মারমুখী মেজাজেই এগোচ্ছিলেন তারা। দু’জনকে বিচ্ছিন্ন করেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া লাথামকে শিকার করেন রুবেল। ৬৪ বলে ৫৪ রান করেন লাথাম।

লাথামের বিদায়ের পর আউট হন টেইলরও। তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান কাটার মাস্টার ফিজ। ৪০ বলে ২৫ রান করেন টেইলর। দলীয় ১৪৭ রানে নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ উইকেট তুলে নিয়ে দারুনভাবে খেলায় ফিরে বাংলাদেশ।

কিন্তু বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেন নিল ব্রুম ও জেমস নিশাম। পঞ্চম উইকেটে ৭৫ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্রুমকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে দলীয় ২২৭ রানে এই জুটি ভাঙ্গেন রুবেল। আউট হওয়ার আগে ৬৫ বলে ৪৮ রান করে ফিরেন ব্রুম।

ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়ার পরিকল্পনা করা নিশামকে তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তবে কলিন মুনরো ও স্যান্টনার দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। মুনরো ১৬ ও স্যান্টানার ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর ও রুবেল ২টি করে উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড :

বাংলাদেশ ইনিংস :

তামিম ইকবাল ক মুনরো ব নিশাম ২৩

সৌম্য সরকার ক লাথাম ব সোধি ৬১

সাব্বির রহমান বোল্ড ব স্যান্টনার ১

মুশফিকুর রহিম ক রঞ্চি ব নিশাম ৫৫

সাকিব আল হাসান ক নিশাম ব সোধি ৬

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক রঞ্চি ব বেনেট ৫১

মোসাদ্দেক হোসেন ক রেন্স ব বেনেট ৪১

মেহেদি হাসান ক রেন্স ব বেনেট ৬

মাশরাফি বিন মর্তুজা রান আউট (রঞ্চি) ১

রুবেল হোসেন অপরাজিত ০

মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত ০

অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-১, ও-১০) ১২

মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) ২৫৭

উইকেট পতন : ১/৭২ (তামিম), ২/৭৯ (সাব্বির), ৩/১১৭ (সৌম্য), ৪/১৩২ (সাকিব), ৫/১৮১ (মুশফিকুর), ৬/২৪২ (মাহমুদুল্লাহ), ৭/২৫৩ (মোসাদ্দেক), ৮/২৫৫ (মিরাজ), ৯/২৫৬ (মাশরাফি)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং :

রেন্স : ৯-০-৬৬-০ (ও-১),

বেনেট : ১০-১-৩১-৩ (ও-৪),

স্যান্টনার : ১০-১-৩৬-১ ,

নিশাম : ৯-০-৬৮-২ (ও-৪),

সোধি : ১০-১-৪০-২,

মুনরো : ২-০-১৪-০।

নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং :

লাথাম ক মুশফিকুর ব রুবেল ৫৪

রঞ্চি ক মাহমুদুল্লাহ ব মুস্তাফিজ ২৭

ওয়াকার রান আউট (সাব্বির) ১৭

টেইলর এলবিডব্লু ব মুস্তাফিজ ২৫

ব্রুম এলবিডব্লু ব রুবেল ৪৮

নিশাম ক মোসাদ্দেক ব মাশরাফি ৫২

মুনরো অপরাজিত ১৬

স্যান্টনার অপরাজিত ৫

অতিরিক্ত (লে বা-৪, ও-১০) ১৪

মোট (৬ উইকেট, ৪৭.৩ ওভার) ২৫৮

উইকেট পতন : ১/৩৯ (রঞ্চি), ২/৮০ (ওয়াকার), ৩/১১০ (লাথাম), ৪/১৪৭ (টেইলর), ৫/২২৭ (ব্রুম), ৬/২৪১ (নিশাম)।

বাংলাদেশ বোলিং :

মাশরাফি : ৬.৩-০-৫৮-১ (ও-১),

সাকিব : ১০-১-৫০-০ (ও-১),

মুস্তাফিজুর : ৯-১-৩৩-২,

মিরাজ : ৮-০-৪৫-০,

মাহমুদুল্লাহ : ১-০-৮-০,,

মোসাদ্দেক : ৩-০-৭-০

রুবেল : ১০-৩-৫৩-২।

ফল : নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : জেমস নিশাম(নিউজিল্যান্ড)।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com