৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি বাড়ান

নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি বাড়ান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জরুরি হচ্ছে বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত নজরদারি। কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, সিন্ডিকেট হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। অনেক দিন পর সুখবর। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্কের দাম বাড়লেও করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যের বাজারে।
কাঁচাবাজারে আলু, কাঁচা মরিচ, শিম, টমেটো, গাজর, বেগুন, পেঁপে সহনীয় দামেই বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন পণ্য করলা, ঢেঁড়স, কচুর লতির দামও তেমন বেশি নয় খুচরা বাজারে। মুদি পণ্যের মধ্যে ভালো মানের মিনিকেট চাল, মসুর ডাল, ভোজ্য তেলের দামও স্থিতিশীল বলে খবরে প্রকাশ। আমদানীকৃত পণ্যের দামও আগের মতোই রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আতঙ্ক না ছড়ালে এবং পাইকাররা সিন্ডিকেট না করলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তেমন কারণ নেই। খবরে বলা জানা যায়, আসন্ন রমজানে নির্দিষ্ট ছয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী জোগান নিশ্চিত করতে ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুরের মজুদ বাড়ানো হচ্ছে।

বাজার কারসাজি, অতি মুনাফা, পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত অসাধু ব্যবসায়ীদের এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নজরদারি করা হবে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মজুদ ঠিক রাখতে আমদানিতে শুল্কছাড়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, টিসিবিকে সক্রিয় রাখা ও ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজানে সহনীয় মূল্যে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে সৎ ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, পণ্য আমদানি ও মজুদের পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য সহজে পৌঁছে দিতে টিসিবি প্রয়োজনে অধিকসংখ্যক ডিলার নিয়োগ করবে। আর টিসিবির ডিলার না থাকা এলাকায় স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সহায়তায় সরবরাহ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।

আমরা মনে করি, টিসিবিকে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর করা গেলে, সেটা হবে অনেক বড় একটি কাজ। বাজারে মূল্যের উঠানামা মূলত নির্ভর করে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাজারের চাহিদা আছে। সে অনুযায়ী সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত রাখা গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণ খুব কঠিন হবে না। আমরা আশা করব, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com