৫ই জুলাই, ২০২০ ইং , ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

পণ্যের গুণগত মান বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে টিকতে হবে

পণ্যের গুণগত মান বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে টিকতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ব বাজারে ইতেমাধ্যেই মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রপ্তানি প্রক্রিয়ায় যে একটা ধস নামবে তা সহজেই অনুমেয়। বিশ্ব অর্থনীতির বিশ্লেষকগণ বার বার পণ্যমান বাড়িয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে টিকবার কথা বলেন। তবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য যাতে অশনিসংকেত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত। উচিত শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নড়েচড়ে বসা। কারণ, অর্থৈনৈতিক মন্দার আভাস যত হবে মানুষকে কাজ করেই বেঁচে থাকতে হবে।

কভিড-১৯ বিক্ষিপ্তভাবে রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যেখানে ধারণা করা হচ্ছে ৩০ থেকে ২০ শতাংশ রপ্তানি কমে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগের যে অর্ডারগুলো বাতিল হয়েছে সেগুলো তারা নেবেন, তবে গার্মেন্টশিল্পের অর্ডার কিছু কমতে পারে। এ ধরনের সংকটজনক পরিস্থিতিতে আমাদের কটনবেইস তৈরি পোশাক থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে সরকারের যে নীতিসহায়তা, নগদ প্রণোদনা, বাজেটারি সহায়তা রয়েছে এগুলো সারা জীবন চলতে পারে না।

গার্মেন্টশিল্প যে সহায়তা পায়, এখন বরং সেসব সুবিধা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে দেওয়া উচিত। কারণ একটা সময় গার্মেন্টশিল্প ছিল শতভাগ আমদানিনির্ভর। এখন কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ। তৈরি পোশাক খাতে যে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসি সুবিধা আছে তাও কেবল রপ্তানি খাতে নয়, সামগ্রিক দেশীয় শিল্পে তা কার্যকর হওয়া উচিত। কভিড-১৯-এর আগে থেকেই কিন্তু নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল আমাদের রপ্তানি আয়ে। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাত বা পণ্যের কথা না ভেবে নীতিসহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের অভ্যন্তরীণ পুরো শিল্প নিয়েই ভাবতে হবে। এ অবস্থায় পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য যেসব সম্ভাবনাময় পণ্য আছে যেমন চামড়া, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, আইসিটিসহ আরও নতুন নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করে সেসব খাতে সরকারের নীতিসহায়তা বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মার্কেট ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আমেরিকা-ইউরোপের স্টোরগুলো খুলছে। কোনো কোনো জায়গায় লাইন ধরে ক্রেতারা পণ্য কিনছে।

বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আপৎকালে কারখানাগুলো খুলে রাখা, যাতে শ্রমিকরা বেকার না হয়। এখন ক্রেতাদের অনলাইনে বিনিয়োগ বাড়ছে। ফলে মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারেও অনলাইনভিত্তিক ছোট ছোট ডেলিভারিতে পণ্য সরবরাহ করা যায়। বাংলাদেশে তৈরী পোশাকের কদর আছে বিশ্বের অনেক দেশেই। বিশেষত আমেরিকায় দেশের পণ্যের এই কদর ধরে রাখতে হবে। আমরা মনে করি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ জনগণের স্বার্থেই সব সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com