৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

পরিবহনে নৈরাজ্য রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

ফাইল ছবি

পরিবহনে নৈরাজ্য রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরিবহন খাত চতুর্মুখী নৈরাজ্যের শিকার। চালক, মালিক, হেলপার এবং চাঁদাবাজির এক বিপ্লব যেনো চলছে পরিবহনে। এর কুপ্রভাবের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কথা কাটাকাটি, মারামারি, জখম- এমনকি খুনের শিকারও হচ্ছেন যাত্রীরা। সড়ক দুর্ঘটনার হিসাব তো নতুন করে দেয়ার কিছু নেই বলেই আমরা মনে করি।

মানুষবান্ধব সেবার আকাশে কখন এই পরিবহন খাত আসবে তা বলা মুশকিল। প্রথমত চাঁদাবাজি বন্ধ না করা গেলে নৈরাজ্য কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না বলেই মনে করেন সড়ক বিশ্লেষকগণ। মানুষ আর গণপরিবহন বলে না, বলে গণদুর্ভোগবহন। অন্য অনেক দুর্ভোগের মতো এ দুর্ভোগেরও জন্ম রাজনীতির গর্ভে। চাঁদাবাজির অন্তরালে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবসার প্রায় পুরোটাই যেখানে রাজনীতিকদের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে গণবান্ধব পরিবহনের আশা করাই যেনো ভুল। শ্তকরা ৬৩ শ্তাংশ মানুষ বাসে চলাচল করলেও গণপরিবহনে নৈরাজ্যর প্রতিটি পদে পদে। যাত্রী নিয়ে টানাটানি, মাঝরাস্তায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা, যাত্রী পেতে দুই বাসের রেষারেষিসহ সব নৈরাজ্য আবারও ফিরে এসেছে রাজধানীর সড়কে ঠিক আগের মতোই। গতকাল শনিবার গাজিপুর থেকে ছেড়ে আসা ভিক্টর বাস বাদুরঝুলিয়ে তুলেছে মানুষ। এখানে স্বাস্থ্যবিধি কেনো ভিক্টর যে ডবল ভাড়া নিচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মানুষ না তোলার জন্য তা-ও মানা হচ্ছে না।

যাত্রীবাহী বাসের এসব বিশৃঙ্খল আচরণের কারণে ঢাকায় যানজট বেড়ে গেছে। এজন্য নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের কর্মযজ্ঞকেও দায়ী করেছেন অনেকে। বাস বে-তে বাস থামছে না। তারা যাত্রী তুলছে নিজেদের সুবিধাজনক স্থান থেকে। দেশের সড়ক-মহাসড়কে বড় কোনো দুর্ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জমে ওঠে কিন্তু কদিন পর সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যায়। জানা গেছে, সরকার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিলেও মালিক-শ্রমিক, সরকারি সংস্থাগুলোও পরস্পরকে সহযোগিতা করে না। সড়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর মাত্র কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সড়ক পাহারা দেওয়া কঠিন। পুলিশের সহযোগিতাও ঠিকমতো মেলে না। এসব নিয়ে সম্প্রতি নগর ভবনে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা ও যানজট নিরসনে ‘বাস রুট রেশ্নালাইজেশ্ন’ কমিটির এক সভা হয়। ওই সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশ্নের মেয়র, ট্রাফিক বিভাগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অচিরেই কাজ শুরু করবেন। করোনার মধ্যে যাত্রী সুরক্ষার ১১ দফা শ্র্তের কিছু মানছেন না পরিবহন কর্মীরা।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নেই, ভাড়ার মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি, যাত্রী অধিকার বলে কোনো কিছুর দেখা এসব পরিবহনে মিলবে না। যানজটের অন্যতম কারণও বাস চলাচলে যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনার অভাব। পরিবহন নৈরাজ্য রুখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com