২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

পর্যটন খাতে বাড়াতে হবে

বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

পর্যটন খাতে বাড়াতে হবে

পর্যটন খাতে যখন এশিয়ার অন্য দেশগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা দেশের এই অপার সম্ভাবনাময় খাতটিকে অবহেলা করে চলেছি। ২০১৫ সালে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত হলেও কাজ খুব একটা এগোয়নি। এখন পর্যন্ত একক পর্যটন আইন নেই। নেই ন্যাশনাল ট্যুরিজম ডাটাবেইস। টিএসএ বা ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট, কিউটিএস বা কোয়ালিটি ট্যুরিজম সার্ভিস, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও গবেষণা সেলও করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় পর্যটনের যথেষ্ট প্রতিফলন না থাকায় দেশের পর্যটনশিল্প এগোতে পারছে না বলে অনেকে মনে করেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, আমলান্ত্রিক জটিলতা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর দুর্বল অবকাঠামো এবং খাতটিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে বিকশিত হতে পারছে না পর্যটন খাত। অন্যান্য খাতের মতো পর্যটন খাতেও করোনার অভিঘাত লেগেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটন খাত। বিদেশগামী, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা ও দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের শতভাগ বুকিং বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

করোনাকালে গণমাধ্যমে যে খবরগুলো এসেছে তাতে পর্যটনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত রয়েছে। দেশে পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় অনেক স্পট যেমন রয়েছে, তেমনি নতুন নতুন পর্যটন স্পটের খবর এসেছে গণমাধ্যমে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে খাগড়াছড়ির তৈলাফাং ঝরনার খবর। পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমানায় কাতালমনিপাড়া গ্রামে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু আর ২০ ফুট প্রশস্ত তৈলাফাং ঝরনার অবস্থান। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ঝরনাটি এরই মধ্যে পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। তৈলাফাং ঝরনার পাশেই রয়েছে আরো দুটি ঝিরি-ঝরনা। ছোট আকারের এই দুটি ঝরনার অবস্থান তৈলাফাং ঝরনার ৫০ মিটারের মধ্যে। ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করবে তৈলাফাং। কিন্তু এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম, দোকানপাট নেই। একইভাবে পর্যটনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে মৌলভীবাজারের।

বৃহত্তর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের পর্যটন খাতে একটা বৃহৎ সম্ভাবনা থাকলেও এখনো এই খাতের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সরকারিভাবে গত ৩০ বছরেও গড়ে ওঠেনি পর্যটন সুবিধা। হামহাম জলপ্রপাত পর্যটনের অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও পর্যাপ্ত গাইড সুবিধা না থাকা, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পর্যটকরা ঝরনায় যেতে পারছে না।

পর্যটনশিল্প সম্পৃক্ত মূল সেবা খাতগুলো যেমন যানবাহন, আবাসন, খাবার ও পানীয়, বিনোদন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ ও পর্যটন অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ এবং পর্যটকদের সেবাপ্রাপ্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com