১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

পাকা হচ্ছে ৩ হাজার ১৪৫ কিমি রাস্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বর্ষাকালে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি হ্রাস ও পণ্য পরিবহন সহজ করতে দেশের কোথাও মাটির রাস্তা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলার ৪৯১টি উপজেলায় ১২ ফুটের কম চওড়া যত কাঁচা রাস্তা রয়েছে, তার সবখানে ইট দিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেয়া একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এক মাস আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গ্রামীণ মাটির রাস্তাগুলো টেকসইকরণের এই প্রকল্প প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সূত্রমতে, ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা হবে। সারাদেশে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পের পুরো ব্যয় সরকার বহন করবে। সারাদেশে ৩ হাজার ১৪৫ কিলোমিটার মাটির রাস্তা, যেগুলো ১২ ফুটের কম চওড়া, সেগুলো ইট দিয়ে টেকসই করা হবে। এ প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের সব উপজেলার যেসব রাস্তা স্থানীয় হাটবাজার, উন্নয়ন কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোতে ইট বিছিয়ে দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করা হবে, যাতে গ্রামীণ জনগণের উৎপাদিত পণ্য বিপণনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কমবে। ১২ ফুটের কম চওড়া রাস্তা পাকা করার সুযোগ নেই। কিন্তু বর্ষাকালে ছোট রাস্তাগুলোতে কাদা জমে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। আবার সংস্কারেও খরচ অনেক। এজন্য সরকার এসব রাস্তায় ইট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি রাস্তায় ইট দিলে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বছর টেকসই হয়। দেশের সব সড়ক নিয়ে স্থানীয সরকার বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক বিভাগকে একটি মহাপরিকল্পনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যে কবে কোথায় কোন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে, তা আগে থেকেই স্পষ্ট থাকবে। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কগুলো পর্যায়ক্রমে চার লেনে রূপান্তরিত করা এবং রাস্তার পাশে সার্ভিস লেন রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সারাদেশে ৩৭৫ কিলোমিটার চার লেন আছে। আগামীতে আরও ৩২৮ কিলোমিটার চার লেন করা হবে। জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত দেশব্যাপী বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ২০০১ সালে প্রায় ২০,৮৫৪ কিলোমিটারে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ৩,১৪৪ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ১,৭৪৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৫,৯৬৪ কিলোমিটার প্রথম শ্রেণির সংযোগ সড়ক। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলির প্রায় সম্পূর্ণ অংশই পাকা।

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির সংযোগ সড়কগুলির শতকরা ৫০ ভাগ পিচঢালা। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) দেশের সদর উপজেলা, গ্রামগঞ্জ ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে ছোট ছোট সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে। ২০০১ সাল পর্যন্ত এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত এ ধরনের সড়কগুলির মোট দৈর্ঘ্য ১,৪৯,১৬৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির (‘বি’ টাইপ) সংযোগ সড়কগুলির মোট দৈর্ঘ্য ১৪,৩৯৩ কিলোমিটার এবং আর-১, আর-২, ও আর-৩ নামে পরিচিত তিন ধরনের গ্রামীণ সড়কের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৩৭,৮২৭ কিলোমিটার, ৪৯,৫৩৮ কিলোমিটার এবং ৪৭,৪০৯ কিলোমিটার। বাংলাদেশ প্রতিবছর বন্যাকবলিত হয় বলে সড়কগুলি সাধারণত উঁচু বাঁধের উপর নির্মাণ করা হয়।

জাতীয় মহাসড়কগুলি যে সকল বাঁধের উপর নির্মিত হয় সেগুলির প্রস্থ ১২.২ মিটার, সড়কের প্রস্থ ৭.৩ মিটার এবং উচ্চতা ১.৮৩ মিটার হয়ে থাকে। আঞ্চলিক মহাসড়কের ক্ষেত্রে এই তিনটি পরিমাপ যথাক্রমে ১০ মিটার, ৫.৫ মিটার এবং ১.৮৩ মিটার হয়ে থাকে। প্রথম (এ) ও দ্বিতীয় (বি) শ্রেণির সংযোগ সড়কগুলির জন্য বাঁধের উপরিতলের প্রস্থ ৭.৩ মিটার, সড়কের প্রস্থ ৩.৬৬ মিটার এবং বাঁধের উচ্চতা ১.৮৩ মিটার হয়ে থাকে। অবশ্য জাতীয় মহাসড়কগুলির দুই-তৃতীয়াংশেরই পরিমাপ এই নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com