১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

পানিবন্দি জামালপুরের ৬০ হাজার পরিবার

পানিবন্দি জামালপুরের ৬০ হাজার পরিবার

জামালপুর প্রতিনিধি : ভাসছে ঘরবাড়ি। ডুবেছে উঠান। শিশুর খেলনা আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই হলো জামালপুরের পানিবন্দী ষাট হাজার মানুষের গল্প। দেখতে দেখতেই ষাট হাজার মানুষ বন্দী হয়ে গেল এসব এলাকায়। জামালপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম ও ঝিনাই নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। রোববার বিকেল থেকে যমুনার পানি দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পানিতে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ, চিকাজানী, চুকাইবাড়ী ও হাতিভাঙ্গা ইউনিয়ন, ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি, বেলগাছা, সাপধরী, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, পাথর্শী ও ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন, মাদারগঞ্জ উপজেলার জোরখালী, চরপাকেরদহ ও বালিজুড়ী ইউনিয়ন, মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ও নাংলা ইউনিয়ন এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা, পিংনা, আওনা, ভাটারা ও কামরাবাদ ইউনিয়নে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যায় বকশীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার এই ছয়টি উপজেলায় অন্তত:পক্ষে শতাধিক গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখার তথ্যমতে রোববার দুপুর পর্যন্ত বন্যা কবলিত এসব এলাকায় অন্তত: ১৩ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলা হলেও ছয়টি উপজেলায় অন্ততঃপক্ষে ৬০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

বন্যার কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইসলামপুর উপজেলায় ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর-উলিয়া রাস্তার খরকা এলাকায় কাঠের পুরনো সেতুটি বন্যার পানির স্রোত ভেঙে যাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর-গুঠাইল ও উলিয়া-নোয়ারপাড়া সড়কে পানি উঠায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের পূর্ববামনা ও উলিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ সড়ক বাঁধ ও ডেবরাইপ্যাচ সেতুটি বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ পুরাতন রেলপথ কাম বাঁধ ভেঙে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি উঠেছে।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার রোববার বিকেলে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ত্রাণের চাল বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসন বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর জন্য ৯০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com