৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ভাটি-বাঙলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জে হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর এলাকার পিছিয়ে থাকা ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারবে। আমরা সুনামগঞ্জে কৃষি কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন করবো। সুনামগঞ্জের মাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হাওর উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করবো। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য একটাই, পিছিয়ে থাকা জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করা। গরীব মানুষ সাধারণ মানুষ যারা গ্রামে বাস করেন তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করা।’

বুধবার (১১ নভেম্বর) দক্ষিণ সুনামগঞ্জে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় আনন্দ মিছিল ও ছাত্র-জনতা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার এম এ মান্নান চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ভাটি এলাকার উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সুনামগঞ্জের দুর্গম হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ সড়ক দিয়ে বর্ষাকালেও চলাচল করা যাবে। দিরাই শাল্লা থেকে আজমিরিগঞ্জ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর উপর রানীগঞ্জ সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। হাওর এলাকা থেকে রাজধানী শহর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও আরামদায়ক করে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ যারা এই সমাবেশে অংশগ্রহন করেছেন, তাদের সবার কাছে একটি আহ্বান, ভেদাভেদ ভুলে হাওর এলাকার গরীব মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী ৫-১০ বছরের মধ্য সুনামগঞ্জ থেকে পাগলাবাজার পর্যন্ত একটি বড় সুনামগঞ্জ শহর গড়ে উঠবে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যে ইতোমধ্যে অসংখ্য ঘরবাড়ি গড়ে ওঠেছে। উন্নয়নের স্বার্থে একতাবদ্ধ থাকবেন, কারো উস্কানিতে পা দেবেন না। উস্কানিমূলক কোনও কাজে আপনারা যাবেন না। সুনামগঞ্জের জন্য আমরা আরও প্রকল্প নিয়ে আসছি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জের সব মানুষ যেন বিশুদ্ধ পানীয়জল পান। আমরা চাই এলাকার গরীব মানুষের উন্নয়ন। কথা একটাই সুনামগঞ্জে একটি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সুনামগঞ্জ আমাদের জেলা, আমাদের ঠিকানা। আমাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের সম্মান ও মর্যাদা অবশ্যই আমরা রক্ষা করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান সুনামগঞ্জ শহর থেকে বেশি দূরে নয়। এটি সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের পাশে। এটি দিরাই, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ রোডের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কোনও পরিবারকেও উচ্ছেদ করতে হবে না। আমরা ফসলি জমি নষ্ট করছি না। সবচেয়ে বেশি উঁচু জায়গা, সবচেয়ে কম মাটি লাগবে ভরাট করতে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কম টাকা লাগবে। এ জায়গার কাছে রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং থানা এলাকা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা এটি প্রস্তাব করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেতা, তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমারা তা মাথা পেতে মেনে নেবো।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ মাস্টারের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান শিপনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আবুল হাসনাত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হেকিম প্রমুখ।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com