২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং , ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

পুকুর ও খাল খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন

পুকুর ও খাল খনন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশ থেকে খাল হারিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের একটি সংবাদ। খাল ও নদীর কিনারা দখলে নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধুরা। তাদের প্রতিহত করতে না পারলে দেশের খাল ও নদির স্বাভাবিক যাত্রা ব্যাহত হতেই থাকবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে লুটপাটের খবর নতুন নয়। দেখা যায়, এমন সব এলাকায় উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে তা প্রয়োজন নেই। আবার যেখানে প্রয়োজন সেখানে কোনো উন্নয়নই হচ্ছে না। তেমনই ঘটেছে পুকুর ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পে। ব্যবহারের উপযোগী করার পাশাপাশি পুকুর-খালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থিত পানির মজুদ বাড়ানো ও শুকনো মৌসুমে পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে বরেন্দ্র এলাকার আট জেলা বাদে দেশের ৫৬ জেলায় পুকুর ও খাল পুনঃখনন করতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় তিন বছর আগে অনুমোদনও পায়। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই পুকুর ও খাল তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, সব জেলার জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা চেয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই কিছু জেলার বেশি পুকুর ও খাল তালিকায় ঢোকাতে হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, যাঁদের প্রভাব আছে, তাঁদের এলাকার পুকুর ও খাল প্রকল্পে ঢুকেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার সরকারি পুকুর পুনঃখনন জরুরি হলেও বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী, ভোলা ও বরিশালের অনেক বেশি পুকুরের নাম ঢোকানো হয়েছে। এই প্রকল্পে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৮৮৫টি পুকুর পুনঃখননের জন্য নাম ঢোকানো হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৭৬টি পুকুরের নাম ঢুকেছে ভোলা থেকে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪১৮টি পুকুরের নাম ঢোকানো হয়েছে বরিশালে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীরা প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ খুলনায় তালিকাভুক্ত হয়েছে মাত্র ৯০টি পুকুর। সাতক্ষীরার ১১১টি পুকুর রয়েছে তালিকায়। উপকূলীয় আরেক জেলা লক্ষ্মীপুরের মাত্র ১৪টি পুকুর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অবস্থা আরো ভয়াবহ; ঠাকুরগাঁওয়ে ৯টি, নীলফামারীতে মাত্র একটি পুকুর রয়েছে তালিকায়। পার্বত্যাঞ্চলের অবস্থাও একই রকম। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন নিয়েও সমানভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আছে। ভোলা থেকে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১৮১টি খাল, পটুয়াখালী থেকে ১৪২টি ও বরিশাল থেকে ৪১৮টি খাল। অন্যদিকে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধায় এ সংখ্যা দশের নিচে।

পুকুর-খালের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থিত পানির মজুদ বাড়ানো ও শুকনো মৌসুমে পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হাতে নেওয়া এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য মহৎ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে আগে অবশ্যই অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় এজাতীয় উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের কোনো কাজে আসবে না। এই প্রকল্পে এলাকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে বলেই আমরা আশাবাদি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com