১৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং , ১লা ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল খাশোগির মরদেহ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খাশোগি হত্যা নিয়ে এবার তুর্কি আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সৌদি দূতাবাস কর্মী। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগি তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে ঢোকার পরই তন্দুর চুলা প্রায় এক ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওইদিন দূতাবাসের বাগানে মাংস কাটার বেশ কয়েকটি বোর্ডও দেখা গিয়েছিল।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) তুরস্কের আদালতে খাশোগি হত্যার বিচারকার্যে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জাকি দামির নামে সৌদি দূতাবাসের এক কর্মী এ তথ্য জানান।

এই হত্যা মামলায় ২০ জন সৌদি নাগরিকের বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে শুরু হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।

বিচারের প্রথম দিনে কনস্যুলেটের টেকনিশিয়ান জাকি দামির বলেন, খাশোগি তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে দূতাবাসে ঢোকার পর তাকে আবাসিক ভবনে ডাকা হয়। তিনি বলেন, ‘সেখানে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি ছিলেন। তারা আমাকে তন্দুরের ওভেন জ্বালাতে বলেন। সেখানে পরিবেশ থমথমে ছিল।’

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে প্রবেশের পর আর ফিরে আসেননি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খাশোগি সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচক ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারও আলাদা একটি বিচারকার্য পরিচালনা করছে। তবে অসম্পূর্ণ হওয়ায় এর অনেক সমালোচনা হয়েছে।

সৌদি দূতাবাসে জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়। প্রশ্ন ওঠে সৌদি শাসকের ভাবমূর্তি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলছে, সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন বলে তাদের ধারণা। তবে সৌদি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তুর্কি কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশের ধারণা, হত্যাকারীরা খাশোগির মরদেহ পুড়িয়ে অথবা টুকরো করে কেটে উধাও করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে।

ইস্তাম্বুলে মামলায় তুর্কি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান এবং রাজদরবারের গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানি খাশোগি হত্যার পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং একটি সৌদি খুনি দলকে নির্দেশনা দিয়েছেন। খাশোগিকে হত্যার জন্য আরও ১৮ আসামি তুরস্কে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলছে। সৌদি আরবে তাদের হস্তান্তর করার সম্ভাবনাও কম। গত বছরের ডিসেম্বরে খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ও তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে খাশোগির পরিবার বলেছে, তারা হত্যাকারীদের ক্ষমা করেছে। সৌদি আইন অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।

এক সৌদি কৌঁসুলি সে সময় বলেন, খাশোগি হত্যায় কাহাতানির জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আসিরিও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও খারিজ করে দেন।

তুর্কি আদালতে জাকি দামিরের সাক্ষ্য অনুসারে, ওইদিন তিনি দূতাবাসের বাগানে মাংস কাটার বেশ কয়েকটি বোর্ড দেখেছিলেন। কাবাব জাতীয় কিছু পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। চুলার চারপাশের মার্বেলের স্ল্যাবগুলোর রং বদলে গিয়েছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, সেগুলো কোনো রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

দূতাবাসের গাড়িচালক ও অন্যান্য সাক্ষীরা বলেন, স্থানীয় এক রেস্তোরাঁ থেকে তাদের কাবাবের কাঁচা মাংস কিনে আনতে বলা হয়েছিল।

জাকি দামির বলেন, কালো কাঁচের জানালার একটি গাড়ি ঢোকার পর তিনি গ্যারেজের দরজা খোলার কাজে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে দ্রুত বাগান ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।

মানবাধিকার কর্মীরা আশা করছেন, ইস্তাম্বুলের বিচারকাজ খাশোগি হত্যা মামলার নতুন দিকে আলোকপাত করবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করবে।

জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাবিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাগনেস কালামার্ড বিচারকাজ শুরুর আগে রয়টার্সকে বলেন, যদি এই বিচারকাজ কার্যকর হয়, তাহলে এটি সর্বজনীন বিচারপ্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। খাশোগির হত্যাকাণ্ডের সময় দূতাবাসের বাইরে অপেক্ষমাণ তার বাগদত্তা হাতিজে জেংগিস বলেন, তিনি শুধু তুরস্ক নয়, বিশ্বের যেখানে সম্ভব, সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন।

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com