মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

পৃথিবীতে জান্নাতের বাগান ‘জিকিরের মজলিস’ : আল্লামা মাসঊদ

পৃথিবীতে জান্নাতের বাগান ‘জিকিরের মজলিস’ : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পৃথিবীতে জান্নাতের বাগান ‘জিকিরের মজলিস’ মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, পৃথিবীতে যদি জান্নাতের বাগান দেখতে চাও, তাহলে জিকিরের মজলিসের দিকে থাকাও। কারণ, পৃথিবীতে জান্নাতের বাগান হলো ‘জিকিরের মজলিস’।

পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির’ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহর নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে। দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ও আল্লাহর নামের জিকিরের চাইতে মধুর কোন শব্দ নেই।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বাদ মাগরিব বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা আয়োজিত রাজধানীর শাহবাগের চাঁদ মসজিদে ইসলাহী প্রোগ্রামে আওলাদে রাসূল, ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর এ খলিফা এসব কথা বলেন।

প্রত্যেকটা নেক কাজের আলাদা আলাদা সুগন্ধি আছে মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মানুষ যখন কোন নেক কাজ করে, তখন এই নেক কাজের সুগন্ধি ছড়ায়। আমাদের নাক বন্ধ, তাই আমরা পাই না। কিন্তু ফেরেশতারা এই নেক কাজে সুগন্ধি পায়।

তিনি বলেন, প্রত্যেটা গুণাহের কাজেরও আলাদা আলাদা দুর্গন্ধ আছে। মানুষ যখন মিথ্যা বলে, গীবত করে, জিনা-ব্যভিচার করে, বিভিন্ন ধরনের গুণাহে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের শরীরে, বাতাসে এসব পাপাচারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর ফেরেশতারা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে ওই বান্দার নামে নালিশ করে।

আল্লাহ তাআলাকে দেখতে হলে অন্তর চুক্ষু খুলতে হবে বলে উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আল্লাহ তাআলাকে শুধু জান্নাতে দেখা যাবে, বিষয়টা এমন নয়। পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় ও আল্লাহকে দেখা যায়। তবে সবাই দেখতে পায় না, যাদের অন্তর চুক্ষু খুলে গেছে, তাঁরাই কেবল দেখতে পায়।

তিনি বলেন, আমাদের অন্তর চুক্ষু বন্ধ। তাই আমরা আল্লাহকে দেখতে পাই না। ঈমানের নূর অন্তরে বৃদ্ধি করতে হবে। দেখবে, ঈমানের নূরে রৌশনিতে অন্তর চুক্ষু খুলে যাবে। তুমি আল্লাহকে দেখতে পাবে।

নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দুরূদ জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, দরুদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। আমাদের পেয়ারে নবীজী হযরত মুহাম্মদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাঁর উপর দুরূদ প্রেরণ করা।

আমাদের এই ইসলাহী ইজতেমার একমাত্র উদ্দেশ্য আমরা আল্লাহকে পেতে চাই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী।

তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের ডাকছেন। আমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ইসলাহী সফরে বের হয়েছি। আমরা আশা করছি, আল্লাহ আমাদের এই মুজাহাদা ও ইসলাহী ইজতেমা কবুল করে নিবেন। আমাদেরকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করে নিবেন।

প্রতিদনি নির্দিষ্ট একটা সময় আল্লাহর নামের জিকির করার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আব্দুর রহীম কাসেমী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ আল্লাহ ও তাঁর নামের জিকির। আল্লাহ নামের জিকিরের স্বাদ, আল্লাহ নামের স্বাদ কখনো কমে না, বরং যত বেশি বেশি করবে ততো স্বাদ বৃদ্ধি পাবে। আল্লার নামের জিকিরে কখনো বিরক্তিও আসে না। যে ব্যক্তি যত বেশি জিকির করবে সে আল্লাহর কাছে ততো প্রিয় হতে থাকবে।

ইসলাহী বয়ানের পর বাদ এশা প্রোগ্রামে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com