১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

প্যারিস চুক্তির অগ্রগতি শূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ● জার্মানির বন শহরে আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৩) অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য যাচ্ছেন। তবে সম্মেলনে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।  বৃহস্পতিবার জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পর অর্জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানতে না চাওয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানান।

এবারের কপ (কনফারেন্স অব পার্টিস) সম্মেলন আয়োজনকারী দেশ ছিল দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। তবে তাদের এ ধরনের বড় সম্মেলন আয়োজনের কাঠামো না থাকায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের সচিবালয় জার্মানিতে এ সম্মেলন হচ্ছে।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা যাচ্ছি পুরনো কথাগুলোই বলার জন্য এবং কী অগ্রগতি হয়েছে, তা জানতে। অগ্রগতি তো প্রায়Ñ বলেই পাশে বসা কর্মকর্তাদের দিকে তাকিয়ে মন্ত্রী বলেন কী বলেন, ‘অগ্রগতি শূন্যের কোঠায় না?

মঞ্জু বলেন, প্যারিসে গত জলবায়ু সম্মেলনে যে চুক্তি হয়েছিল তার অগ্রগতি প্রায় শূন্য, শূন্যই। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো চীন আমেরিকাকে আহ্বান জানিয়েছে, আসুন এই সঙ্কটে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে নেতৃত্ব তারা ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে ডিফাই (তুচ্ছ করা) করছে এবং চ্যালেঞ্জ করছে। উন্নত দেশগুলো উন্নয়ন দেশগুলোর মতো আচরণ করছে। আমাদের উন্নত দেশের মতো আচরণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের এবার বিরাট টিম যাচ্ছে, আসার পর আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন কী পাইলেন, আমি বলব কিছুই পাইনি। আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন ট্যাক্স পেয়ারদের (করদাতাদের) পয়সায় গেলেন, খেলেন, সপিং করলেন, এখানে এসে বলছেন কিছুই পেলাম না। তাইলে গেলেন কেন?

‘আমাকে এই প্রশ্ন করতে পারবেন না, কারণ আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় আমি ট্যাক্স পেয়ারদের পয়সার (জলবায়ু সম্মেলন) যাই না।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের কনফারেন্সে বাংলাদেশের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। কারণ হলো, আবহাওয়ার পরিবর্তনে যে দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, আমরা যাচ্ছি প্রধানত আমাদের উদ্বেগ জানাতে। কিন্তু আমাদের উদ্বেগ জানালেই একটি বিশেষ দেশের অবস্থান পরিবর্তিত হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। এই পরিস্থিতিতেও বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকগুলো অর্থ ধার দেবে। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক যে টাকাগুলো পেতাম যেমন ব্রিটিশদের ডিএফআইডি, তা কিন্তু পাচ্ছি না। তাই আমি বলব প্যারিস চুক্তির আগেই আমরা ভাল ছিলাম।

তিনি বলেন, সম্মেলনে আমরা ক্ষতিপূরণ শব্দটা ব্যবহার করব না, আমরা গ্র্যান্ড চাইব। বলব আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এজন্য কমপেনসেট কর। পয়সাওয়ালাদের কথা বললে মডেস্টলি বলতে হয়।

জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহারের দুর্নীতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, (জলবায়ু তহবিলের দুর্নীতি নিয়ে) স্পষ্ট করে বললে টিআইবি খুব বিপদে আছে। আগে যত শক্তভাবে লিখতে পারত, এখন পিছলাইয়া যাচ্ছে। ধরে আবার ধরে না, ছাড়ে আবার ছাড়ে না। আমরা প্রজেক্ট নিতে পারছি না এটা হয়তো এক সময় ছিল। এটা বর্তমানে নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু তহবিলের টাকা স্থানীয় সরকার, শিল্প মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চলে গেল। এই (পরিবেশ ও বন) মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি করার অবকাশ আছে বলে আমি জানি না। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য টাকা তো অন্য মন্ত্রণালয়ে চলে যাচ্ছে। আমি কোনো প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করি না।

পরিবেশ ও বন সচিব ইসতিয়াক আহমদ বলেন, (জলবায়ু ইস্যুতে) আমাদের স্বার্থ যাতে রক্ষা হয় এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আমরা একটি স্ট্র্যাটেজি করেছি। বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের ফোকাসটা থাকবে যাতে রুল বুকটা প্রণয়ন করা। রুল বুকে বিভিন্ন অ্যাসপেক্ট থাকবে, এটা হবে বৈশ্বিক বিষয়। এছাড়া ফাইন্যান্সিংয়ের বিষয়গুলোতে আমার বেশি জোর দেব।

আগামী ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৩। জামার্নিতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৭ দেশের প্রায় দশ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিবে। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার উপায় এবং আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com