১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

প্রতিবেদন জমা হয়নি ১৬টি তারিখেও, জয়কে অপহরণে চক্রান্ত

আদালত প্রতিবেদক ● তারিখের পর তারিখ পার হলেও দেখা নেই প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবেদনের। দুই বছর আগের এই মামলায় ১৬ বার সময় নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত। গত ৩ অক্টোবর এই পুলিশ কর্মকর্তা ষষ্ঠদশ বার সময় নিয়েছিলেন। তখন আদালত ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় তাকে।

ধার্য দিন  বুধবার মামলাটি আদালতে উঠলে আবার সময় চান তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত। তার আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবারও তাকে সময় দিয়েছেন।

ওই আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এসআই জালাল আহমেদ বলেন, কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারছেন না, সে কারণ আদালতের সামনে ব্যাখ্যা করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারকও তাকে কারণ দর্শাতে বলেননি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জয়কে অপহরণের এই মামলায় সম্পাদক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর বছর গড়িয়ে গেলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেনি পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয়ের ব্যক্তিগত তথ্য পেতে ওই দেশে থাকা এক বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজার এফবিআইর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন বলে দেশটির আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পর বাংলাদেশে এই মামলাটি করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট করা এই মামলার বাদী হন ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নথিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষতি করার জন্য তার ব্যক্তিগত তথ্য পেতে আসামি এফবিআইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিলেন।  ঘুষ দিয়ে তথ্য পাওয়ার পর সিজার তা বাংলাদেশি এক সাংবাদিককে সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়। ডিবির করা মামলায় সিজারের বাবা প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ দলটির শীর্ষনেতাদের আসামি করা হয়।

শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জয়ের বিষয়ে চক্রান্তকারীদের সঙ্গে শফিক রেহমানসহ দুই-তিনজনের যোগাযোগ ছিল। এরপর মাহমুদুর রহমানকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগ করা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার একত্রিত হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com