২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

প্রতি জেলায় বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে হবে : ডা. জাফরুল্লাহ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রত্যেক জেলায় একটি করে বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে ৩৫ টাকা দামের মরফিন থাকবে না, সেটা হতে পারে না।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে আহত রোগীদের দেখতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তার আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন ও বার্ন ইউনিটের ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. আবদুল কালামের সঙ্গে দেখা করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘একটি হাসপাতালে মরফিন থাকবে না; যেটার দাম ৩৫ টাকা। চিকিৎসকদের বেসিক ট্রেনিং থাকবে না, এটা হয় না। আজকে রাস্তায় যে কোনো সময় অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে, অ্যাক্সিডেন্ট হলে আগুন লাগতে পারে। এজন্য প্রত্যেকটা ডাক্তারের বার্নের চিকিৎসা জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় দগ্ধ বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ব্যবস্থা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জেই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া উচিৎ ছিলো। রোগীদের চিকিৎসাটা যদি নারায়ণগঞ্জেই করা যেতে তাহলে হয়তো অনেক রোগী বেঁচে যেতে পারতো। এই রোগীদের খুবই দ্রুত চিকিৎসা করার ব্যবস্থা দরকার ছিল। চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, আমি সামন্ত লালকে বললাম তোমরা কয়জনকে ঢাকায় আনবা। প্রত্যেক জেলা শহরে এমন রোগীদের জন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘ব্যবস্থাপনার একটা ভুল আছে। আমি যেটা দেখেছি, আমি সন্তুষ্ট। চিকিৎসকরা অনেক যত্ন নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটা দুর্ভাগ্য হলো, এটা বাংলাদেশের একমাত্র হাসপাতাল। কিন্তু এখানে আসার আগেই ৫০ পার্সেন্ট চিকিৎসা যেখান থেকে আসছে সেখানে পাওয়া দরকার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স যখন অনেক কম ছিল, যখন আমি বিলেতে প্র্যাকটিস করতাম। আমাদের কাজ ছিল- বার্ন রোগী যারা আসতো, সঙ্গে সঙ্গে একটা মরফিন ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া। কিন্তু এখানে যেটা হয়, তাকে ডাক্তার সাহেব লিখে দেন- নিয়ে আসেন। ওষুধটার (মরফিন) দাম ৩৫ টাকা, এটা ৩০০/৩৫০ তে পাওয়া যায়। এটার দাম ৩৫ টাকাও হওয়া উচিত না। এটার দাম ৩৫০ টাকা হওয়া উচিত না, ইনফ্যাক্ট গণস্বাস্থ্য এটা বানায়। যেহেতু সবাই দাম বাড়িয়েছে গণস্বাস্থ্য দাম বাড়িয়েছে। এটা জাতির জন্য দূর্ভাগ্য। সরকারে ওষুধ নীতিতে এসবের দাম নির্ধারণ করা থাকলে এই একটা ইনজেকশনের দাম হতো ২০-২৫ টাকা। ২০-২৫ টাকা হওয়ার মানেই হলো গণস্বাস্থ্যের ৫ থেকে ১০ টাকা প্রফিট হওয়া। সেটা না করে এটা এখন ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘তারপর আরেকটা ড্র ব্যাক আমি লক্ষ্য করলাম ইনাদের লাইসেন্স অনেক কম। একটা ৫০০ বেডের হাসপাতালে মিনিমাম ৩০ হাজার ইনজেকশনের পারমিশন থাকা উচিত। কারণ আসার সঙ্গে সঙ্গে ইনজেকশনটা দিতে হয়। মরফিন আবার হার্টটাকে বাঁচায়।’

/এএ

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com