২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

প্রিয় হাফেয মাহফুজ | লাবীব আব্দুল্লাহ

ছবি : নৌকাডুবিতে শহীদ হাফেয মাহফুজ

প্রিয় হাফেয মাহফুজ | লাবীব আব্দুল্লাহ

মনে পড়ে কুরআনের প্রতি আপনার ভালোবাসার কথা

প্রিয় হাফেয মাহফুজ ভাই
কষ্টে রাহিমাহুল্লাহ লিখলাম৷
আপনি একজন সফল শিক্ষক৷
হাফেয ও হাফেযা গড়ার কারিগর৷

জীবিত থাকতেও আপনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন৷ আপনি সরল, সহজ ও বিনয়ী ছিলেন৷ ছিলেন শিক্ষার্থীদের জন্য পিতার ভূমিকায়৷ রুচিশীল৷ গরীব ছাত্র ছাত্রীদের ছাড় দিয়ে ফ্রি খানা ও ফ্রি বেতনে পড়ার ব্যবস্থা করেছেন৷ আপনি চরাঞ্চলের কুরআনের চেরাগ জ্বালিয়েছিলেন৷ আলেকিত প্রদীপ৷

সেই প্রদীপে আলোকিত আলোকিত ও আলোড়িত হয়েছে গ্রাম থেকে শহর৷ আপনি আপনার শিক্ষকতার কষ্ট, স্বপ্ন ও সফলতার গল্প বলেছিলেন আপনার হাতে গড়ার মারকাযুয সুন্নাহতে ছায়াঘেরা কাঠাল গাছের নীচে বসে বসে৷ রৌদ্রময় দুপুরে, পড়ন্ত বিকেলে গল্পে গল্পে কেটেছিলো আমাদের সময়৷

৩০০ রোযাদারদের এক মাসের ইফতার সামগ্রি বিতরণে আপনি রাত জেগে মেহনত করেছিলেন৷ ২০১৯ সালে শায়খ আহমাদুল্লাহ পরিচালিত আস -সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই ইফতার আয়োজনে আপনার মারকাযুস সুন্নাহ ছিলো বিতরণকেন্দ্র৷ মুজীব রাহমান, সাইফুল বারী, যুবায়ের আহমাদ, আবরার আব্দুল্লাহ, প্রিয় শায়খ যাকারিয়া মাহমুদ মাদানী ভাইসহ দেখেছি আপনার আমানতদারি, সততা, ত্যাগ, মেহমানদারি৷

আপনার মাদরাসার ছাত্র ছাত্রীর তিলায়াত শুনিয়েছিলেন আপনি আমাদের৷ মুগ্ধকর পরিবেশে৷ গাছের ছায়ায় বসিয়ে৷ ময়মনসিংহ শহর থেকে নদীর উত্তরে আপনি ছিলেন কুরআনি আলোর ফেরিওয়ালা, আলোর মশালবাহী৷ আপনার মাদরাসার মসজিদে আমাকে জুমার খুতবা ও বয়ান দিয়েছিলেন সেই জুমায়৷

আপনার সাথে উচিতপুরের হাওড়ে যারা শাহাদত বরণ করেছেন সবাইকে আল্লাহ ওপারে সুখ দিন৷ জান্নাতি জীবন দিন৷ রহমতে ছায়ায় হোক জীবন৷ ঈদের আগের দিনও আমি কোনাপাড়ার মাদরাসাটি আমার বাচ্চাদের দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম নদী পাড়ি দিয়ে৷ আপনার কাছেই তো নদীর পানি ছিলো৷ ছিলো পাল তোলা নৌকা৷ ডিঙ্গি নৌকা৷

পারাবারের নৌকা৷ আমি ভাইস চরের জলাশয়ে হাঁস ও মাছের মতো দেখেছি ছোট শিশুরা সাঁতার কাটছে৷ বাচ্চারা জলাশয়ে নাচানাচি করছে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে৷ আপনার কোনাপাড়ার কাছেই তো লৌহিত্য৷ তবুও আপনি নৌভ্রমণে ভয়াল ঢেউ ও ধমকা হাওয়ায় কেন গেলেন জানি না৷ জানি তকদির৷ জানি ওপারের ডাক৷ কেউ হয়তো বলবে অসতর্কতা৷

আপনার চেহারা, আপনার চেহারায় তেলাওয়াতের নুর আমার চোখে ভাসছে৷ আপনার লাশ বা পানিতে নিমজ্জিত ছবি আমি দেখতে পারি না৷

মনে হয় আপনি বলছেন,
“লাবীব ভাই আমার মাহফিলের মঞ্চ পরিচালনা আপনিই করবেন৷”
আজ থাক, অনেক স্মৃতি ভিড় করছে স্ম়তিতে অমলিন আপনি৷
আপনি শত শত হাফেয ও হাফেযার উস্তায৷ কুরআন আপনার জন্য শাফায়াত করবে আশা করি৷ রব্বে কারীম আপনাকে শাহাদতের মর্যদা দিবেন৷ দিবেন কুরআনের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান৷

ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com