১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

‘ফেসবুক লেখকদের সেলিব্রেটির পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান’

সাহিত্যসভায় পুরস্কৃতদের পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন প্রধান অতিথি কবি এম আর মনজু, প্রধা আলোচক মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকি, বিশেষ অতিথি গল্পকার কাজী সিকান্দার, সমালোচক শামস আরেফিন, সায়ীদ উসমান প্রমুখ।

‘ফেসবুক লেখকদের সেলিব্রেটির পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান’

ফেসবুকে দুই লাইন লিখেই সেলিব্রেটি বনে যায় : মাওলানা সাকি

পাথেয় রিপোর্ট : নিজেদের আত্মপ্রচার বাদ দিয়ে ইসলামের প্রচারে লেখকদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মাসিক আল কারীম সম্পাদক মাওলানা দিলাওয়ার হোসাইন সাকী। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আগ্রাসনে আমাদের সাহিত্য সভাগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সভাগুলো থেকে অতীতে অনেক সৃজনশীল লেখক তৈরী হয়েছেন। আজ মিডিয়ায় সবাই আত্মপ্রচারে ব্যস্ত সবাই। দু’চার লাইন লিখেই সেলিব্রেটি হতে চাই। ফলে লেখক অনেক তৈরী হচ্ছে কিন্তু সৃজনশীল লেখক পাওয়া যাচ্ছে না।

শীলন বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শীলন বাংলাদেশ তাদের যাত্রা ধরে রেখেছে। যা প্রশংসা যোগ্য। আমি আশাকরি ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এখান থেকে সৃজনশীল ভালো মানের লেখক বেরিয়ে আসবে।

২৬ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় মাদরাসা উসমান মিলনায়তনে শীলন বাংলাদেশ আয়োজিত ১০৯ তম সাহিত্যসভায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা সাকি বলেন, দেশে মডারেড আর কট্টর মুসলমান কীভাবে তৈরী হয়েছে? এটাও মিডিয়ার সৃষ্টি। মিডিয়া প্রকৃত দ্বীনদারদের সেকেলে হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ দেশে মডারেট মুসলমানরা পূর্ণ ইসলাম মানতে নারাজ। অথচ মনমোহন সিংরা এ দেশে এলেও তাদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আসেন। অথচ এ দেশে একজন মুসলমান পাঞ্জাবী টুপি পরে সংসদে গেলে, সচিবালয়ে গেলে, এমপি হলে অনেকেই অবাক হবেন।

নিজেকে আলেম সাহিত্যিক হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে দ্বীনী আদর্শের মধ্যে থেকেই জানিয়ে সাকি বলেন, লেবাসে, পোশাকে আলেমের চিহ্ন থাকতে হবে। বাংলা সাহিত্যে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে হবে।

সব আগ্রাসনের মোকাবেলায় আলেম লেখকদের দায়িত্ব নিতে হবে উল্লেখ করে মাওলানা সাকি বলেন, লেনিন মার্কসবাদিরা সাহিত্যাঙ্গন এখনো দখলে রেখেছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। জালালুদ্দীন রুমী, শেখ সাদি, ফরিদুদ্দীন আত্তাররা ভিন্নধর্মের ভাষা ফার্সিতে সাহিত্য তৈরী করে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলাসাহিত্যকেও আলেমদের দখলে আনতে হবে।

দুই লাইনে ফেসবুকে লিখে লিখে এখন তরুণরা বেঁকে বসছে দাবি করে মাওলানা সাকি বলেন, ফেসবুকে দুই লাইন লিখেই সেলিব্রেটি বনে যায় অনেকেই। ওখান থেকে ফিরে আসতে হবে। সেলিব্রেটি হওয়ার স্বপ্ন তরুণদের ধ্বংস করছে। স্বত্রন্ত্র ও ঐতিহ্যকে বিসর্জন দিয়ে সাহিত্য করে কোনো লাভ নেই। আমরা সাহিত্য চর্চা করবো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি কবি ও ছড়াকার এইচ এম মনজু বলেন, সাহিত্যচর্চা, লেখালেখি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে। এ পথে এসে আমাদেরকে বিপথগামী হয়ে গেলে চলবে না। আমাদের কলম দ্বারাই সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায়ের পক্ষে লিখতে হবে এবং সমাজের সমস্ত ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

লেখকদের কলমে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা ঢেলে দেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি বলেন, যারা বিসমিল্লাহ্ বলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লিখে তাদের কলমে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা ঢেলে দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বেশী লেখাপড়া করেননি কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ন্যায়ের কথা লিখতেন, মানবতার জন্য লিখতেন। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কলমে প্রজ্ঞা ঢেলে দিয়েছিলেন। তাই তিনি কালজয়ী হতে পেরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাভাষার পাশাপাশি ইংরেজি,আরবী, ফার্সী ও উর্দু ভাষার বিপুল সাহিত্য ভাণ্ডার মন্থন করে আমাদেরকে জ্ঞানভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অনুবাদও করতে হবে।

সাহিত্য সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণ বক্তা মাওলানা মাঈনুদ্দীন খান তানভীর বলেন, কওমী অঙ্গনে লেখালেখি ও সাহিত্যের খেদমত খুব-ই কম হচ্ছে। এই অঙ্গনের কারো লেখা বাংলায় একটি গ্রহণযোগ্য সৃজনশীল সীরাত গ্রন্থও আজও পাওয়া যায় না। অথচ, ইসলামবিদ্বেষী মার্ক্সবাদ,লেলিনবাদ ইত্যাদি বিভিন্ন মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহিত্যের উঁচু উঁচু স্তর দখল করে আছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কওমী অঙ্গনের এই সমস্ত সাহিত্য সভাগুলো থেকেই আগামীতে ভালোমানের সৃজনশীল লেখক বেরিয়ে আসবে।

পঠিত লেখার উপর উপভোগ্য আলোচনা করেন কবি শামস আরেফিন এবং ছড়াশিল্পী-গীতিকার সায়ীদ উসমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গল্পকার কাজী সিকান্দার । অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কবি আদিল মাহমুদ।

শীলন বাংলাদেশের সাহিত্যসভায় লেখা পাঠ করেন, মাসউদুল কাদির, সায়ীদ উসমান, কাজী সিকান্দার, আদিল মাহমুদ, আবুদ্দারদা আব্দুল্লাহ্, আহমদ কাশফী, আহসান হাবীব রাফি, তোফায়েল আহমদ শিহাব প্রমুখ।

এছাড়াও উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে সাহিত্য আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন, রাশেদ হাসান, আখলাকুল আম্বিয়া, ইবরাহীম হাসান,আব্দুল্লাহ আল-মামুন প্রমুখ।

পঠিতলেখার উপর বিশেষ বিচারে তিন জনকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদান করেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

শীলন বাংলাদেশের সভাপতি মাসউদুল কাদির বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আগের মতোই শীলনকে ভালোবাসেন এবং বাসছেন এরচেয়ে আনন্দের কিছু নেই।

মাসউদুল কাদির বলেন, নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া এই শীলন বাংলাদেশের সাহিত্য আড্ডার মূল টার্গেট আমাদের মেধাবী তৃণমূল। আমরা তাদের নিয়ে পথ চলতে চাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com