মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

বক্তাদের আখলাকে হাসানা জরুরি

বক্তাদের আখলাকে হাসানা জরুরি

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : মঞ্চে উঠে গরম গরম বক্তৃতা দেওয়া সহজ কাজ। কিন্তু আপোসে আপনজনের সাথে উত্তম আখলাক দেখানো কিন্তু সবার সাধ্যে কুলায় না। এব্যাপারে অকৃতকার্য হতে দেখি বহু মানুষকে।

আমাদের দেশের অনেক নামী-বক্তা রয়েছেন, যাদের বক্তৃতায় মুহু মুহু স্লোগান ওঠে। তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন, বক্তৃতার চোটে মঞ্চ থর থর করে কাঁপতে থাকে। গায়ের শক্তি দিয়ে টেবিল থাপড়াইতে থাকেন। গলায় এত জোর, এই বুঝি সাউন্ড সিস্টেম বিকল হয়ে গেল!! পুরো দুই ঘন্টা সর্ব শক্তি প্রয়োগ করেন বক্তৃতায়।

কিন্তু দুঃখজনক হলো, ওসব মঞ্চ কাঁপানো বক্তাদের অভ্যন্তরিন আমল- আখলাক আপত্তিকর। নিজের পরিবার- পরিজন,বন্ধু-বান্ধব, গুণ- গ্রাহীদের সাথে ভাল আচরণ করেন না। অনেকেরই পরিবার অসন্তুষ্ট। কারো বন্ধুরা নারাজ। কারো ভক্তবৃন্দ নাখোশ থাকেন তাদের উপর। কখনো ভক্ত এবং আগত মেহমানদের সাথে হাসি মুখে কথা বলেন না।

প্রায় সময় দেখা যায় এসব চিত্র। অনেক বক্তার এসব আখলাক দেখে বিস্মিত হয় সাধারণ মানুষ।
এছাড়া অভ্যন্তরিন আরো কিছু বিষয় আছে, সে গুলো আরো আপত্তিকর। অনেক বক্তা আছেন, ফরজ নামাজে গাফলতি, গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ নসীহত করে ফজরের নামাজ ঘুমিয়ে পার করেন।

বড় আফসোস হয় তাদের জন্য, মানুষকে নসীহত করার সময় ঠিকই করেন। কিন্তু নিজের চরিত্র একদম নিম্নস্তরের। বে- আমল হয়ে থাকেন সব সময়।

কিন্তু এই ভাবে কি সম্ভব মানুষকে ইসলাহ করা। নিজে বে- আমল হয়ে অন্যকে জ্ঞান দেওয়া কি কোন আদর্শ মানুষের কাজ?

ওসব বক্তাদের অনেকে আছেন রাজনীতিবিদ। সংগঠন চালায়ে থাকেন। সংগঠনের প্রথম সারির নেতা। নিজের হাসিমুখটা যদি কর্মীগণ না দেখতে পারেন, তাহলে তিনি কিভাবে সংগঠনের হাল ধরবেন?

আর হচ্ছেও তাই, তাদের সংগঠনগুলো আজো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না।

বক্তৃতা দেওয়া আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এক নয়। বক্তৃতা ফুটপথের ঔষধ বিক্রেতা গনও দিয়ে থাকেন। ফুটপথের লেকচারারদের বক্তৃায় মানুষ হতবাক হয়ে যায়।

ওয়াজের ময়দানে গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে স্রোতাদের খুব আকৃষ্ট করা যায়, কিন্তু এসব লোকদের সাংগঠনিকভাবে নিজের দলে নিয়ে আসা যায় না।
সংগঠনকে উচ্চতায় নিতে হলে, নেতাকে মিশে যেতে হবে মানুষের সাথে। হাসিমুখ থাকতে হবে সব সময়। শত ব্যস্ততায় অন্য জন, অপরিচিত জনের সাথে ভাল আখলাক দেখাতে হবে।

রাজনীতির ময়দানে মুফতি আমিনী সাহেবকে দেখেছি হাসিমুখ। একান্ত আলেম- উলামা, বন্ধু- বান্ধবদের সাথে প্রাণ খুলে কথা বলতেন। যে কেউ গেলে তাঁর সমস্যা দেখার চেষ্টা করতেন।

আমাদের ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী ( রহঃ) এর আখলাক দেখেছি, একদম নববী আখলাকে তৈরী করে ছিলেন নিজেকে। মাদানী সাহেবের মজলিস সব সময় প্রাণবন্ত থাকত। সকল ভক্তবৃন্দের সাথে এমন ভাবে কথা বলতেন, যাতে প্রাণ ভরে যেত।

ওসব বুজুর্গদের আমল- আখলাক ছিল ঈর্ষনীয় পর্যায়ের। তারা যেরকম মানুষকে ওয়াজ করেছেন, আবার যথাযথ আমল করেছেন।

এজন্য বর্তমান সময়ে কিছু বক্তা আমাদের দেশে রয়েছে, তাদের সংশোধন হওয়া জরুরি। তাদের আচার- ব্যবহার সহী হওয়া চাই। আগন্তুকদের সাথে ভাল ব্যবহার করা দরকার সব সময়। নিজের পরিবার পরিজনদের সাথে উত্তম আখলাক দেখানো, বন্ধু-বান্ধব, আলেম- উলামা, দলের কর্মীদের সাথে হাসিমুখ হোক সব সময়।

আল্লাহ তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com