৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং , ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কাম্য

মুজিববর্ষ

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কাম্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুজিবর্ষ শুরু আজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার মতো রাঙা একজীবন। তাঁর কর্ম ও আদর্শ হোক পাথেয়-এমন কামনা করি আমরা। অথচ তাকে আঘাতের পর আঘাতে আরও উজ্জ্বলতর খাঁটি সোনার মতো পরস্ফুটিত হয়ে মানুষের সামনে প্রতিভাত হতে হয়েছে। জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব আজ আরও বহুগুণ শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য। আনন্দের বিষয় হলো, ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ। সরকারিভাবে বছরটি মুজিব বর্ষ হিসেবে উদ্যাপিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ শুধু বাংলাদেশে উদ্যাপিত হচ্ছে না, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থাও (ইউনেসকো) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ইউনেসকোর সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কিংবা ইউনেসকো সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করতে পারবে। তবে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের মুজিববর্ষ অনুষ্ঠানমালাকে সংকুচিত করা হয়েছে।

আমরা জানি, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন না হলে আর কখনো আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না। ওই সময় এবং তার পরবর্তী সময়ের, বিশেষ করে নব্বই দশকের শুরুতে বিশ্ব ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের পতন এবং একক পরাশক্তি উত্থানের নির্মোহ বিশ্লেষণে সেটা বোঝা যায়। নব্বই দশকের শুরু থেকে যে বিশ্ব ব্যবস্থা ও ক্ষমতা বলয়ের সমীকরণ এখন পর্যন্ত বিদ্যমান তাতে সহজেই বোঝা যায় একাত্তরে ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ভূমিকা রেখেছিল তা রাখা সম্ভব হতো না। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ওই সময়ে সেই ঐতিহাসিক সুদৃঢ় ভূমিকা না রাখলে বা রাখতে না পারলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ভিয়েতনামের মতো দীর্ঘায়িত হতে পারত, অথবা স্বাধীনতা অর্জন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেতে পারতো।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর যখন আমরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি, তখনো তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। তাঁর নেতৃত্বেই গোটা জাতি স্বাধীনতার আন্দোলনে একাত্ম হয় এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসজুড়ে বন্দী বঙ্গবন্ধুই ছিলেন মুক্তিকামী মানুষের প্রেরণা। বিশ্বজনমতের চাপে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিজয়ী জাতির নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। তাঁর এই ফিরে আসা ছিল অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ মার্চ ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের একসম্ভ্রান্ত মুসলিম শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দুর্বৃত্তদের দুমশনির কারণে তিনি ইহধাম ত্যাগ করেন ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে। এ ঘটনা না ঘটলে পৃথিবী এই বাংলাদেশকে আরও ভিন্নতর দেখতে পারতো। মুজিবর্ষের সূচনায় মুজিবুর রহমানের আদর্শিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় যেনো আমরা গ্রহণ করতে পারি- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com