৮ই মার্চ, ২০২১ ইং , ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরী

বছরজুড়ে উজ্জীবিত হোক একুশের চেতনা

বছরজুড়ে উজ্জীবিত হোক একুশের চেতনা

লু ৎ ফ র র হ মা ন লা ভ লু

একুশ মানেই চেতনা, একুশ মানেই ত্যাগ, মহিমার এক উজ্জীবিত প্রেরণা। অমর একুশে বাঙ্গালী জাতীয় জীবনের এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়। এই গৌরব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মহিমা পৃথিবীর কোন জাতির নয় তা একান্তই বাঙালির। পৃথিবীর বুকে এই প্রথম কোনো জাতি যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মর্যাদা রক্ষা করেছিলো মাতৃভাষা। তারা ভাষা শহীদ নামে সমাগত। এর গৌরবউজ্জ্বল সম্মাননা হিসেবে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করে।যার ফলাফল বাংলার চেতনার ইতিহাস যেমন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী পাশাপাশি আজ সারা বিশ্বে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে উৎযাপন করে তারা অপরূপ দৃষ্টান্ত রেখেছেন। অমর একুশ ও মাতৃভাষাকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে বরণ করছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকরা। বিশেষ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি সবার সব পথ মিশে হয় এক অভিন্ন ঠিকানায়। সেই ঠিকানা হলে শহীদ মিনার হাতে হাতে বসন্তে ফোটা ফুল। কণ্ঠে কণ্ঠে অমর সেই গান। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী / আমি কি ভুলিতে পারি……।

ধীর পায়ে এগিয়ে যা নানা বয়সের মানুষ। ভাষা শহীদ ও মাতৃভাষার প্রতি নিবেদিত ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনারের বেদি। এতো সম্মান, এতো শ্রদ্ধা, এতো ভক্তি ও ভালোবাসা দেখানোর পেছনে আছে এক তাজা রক্ত দানের ইতিহাস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান) দামাল ছেলেরা এবং সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শোষকগোষ্ঠীর চোখরাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলো ১৯৫২ সালে সেই দিনে। ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিলো তরুণ যুবক সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অগনিত শহীদের রক্তে। আর রক্তঋণে বাঁধা বাঙ্গালি জাতিসহ সারা বিশ্ব আজ সেই শহীদের সম্মান জানাছে। কিš দুঃখের বিষয় আজ আমরা এই ত্যাগ, মহিমা,বীরত্বকে শুধু বিশেষ দিন বা মাসে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। যা আমাদের জাতীর জন্য আজ এক সমবেদনা ছাড়া যেনো কিছু নয়। যেখানে ভাষা শহীদরা শিক্ষা দিলেন ত্যাগের।z

মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি ও ভালোবাসতে বললেন দেশের মানুষকে জীবনের চাইতেও বেশি। চিন্তা করতে হবে দেশ, জাতির উন্নতি বয়ে আনতে হবে সুখ, শান্তি। সেখানে আজ আমরা তাদের আদর্শ ভুলে বিদেশী কালচার গ্রহণ করে নিজেদের আধুনিক হওয়ার স্বপ্ন দেখি। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের এবং জাতীর উন্নতি কামনা করি। যার ফলে একদিকে যেমন হারিয়ে ফেলছি আমাদের নিজস্ব চেতনা ও ভুলণ্ঠিত হছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ত্যাগ, মহিমার ইতিহাস। সরে যাছি আমরা আমাদের নিজ স্বক্রিয়তা ও স্বধিকার অনুপ্রেরণা থেকে, সংক্ষিপ্ত করছি আমাদের ঐতিহ্য। ২১ শে ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে চলে আমাদের বিশাল কর্মপ্রচেষ্টা কিন্তু একবারো ভাবি না আমাদের এই সীমাবদ্ধ আয়োজন আস্তে আস্তে আমাদের কালচারে পরিণত হছে। যার ফলে আমরা আজ একুশের মহান আদর্শ ভুলে জড়িয়ে পড়েছি দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্যের কালো ছায়ায়।

আমরা আমাদের নতুন প্রজম্মদের বঞ্চিতকরছি ত্যাগের শিক্ষা থেকে। তাই শুধু বিশেষ দিন বা মাস নয় ভাষা শহীদ ও মাতৃভাষার সম্মান অটুট থাকুক সারাবছর জুড়ে। কেননা, একুশের চেতনা ও ভাষা শহীদের মহিমা বুকে লালন করে উন্নত জাতি গড়ার অবকাশ নেই।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com