৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

বন্যায় ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়ান

বন্যায় ভাসমান মানুষের পাশে দাঁড়ান

বন্যায় মানুষকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। লাখো লাখো মানুষ ভাসছে পানির উপর। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনাম ছিলো ‘বন্যায় পানিবন্দি ৩৫ লাখ মানুষ’। অন্যান্য পতপত্রিকায়ও বন্যার খবর গুরুত্ব পেয়েছে। তার উপর শুরু হয়েছে রাজধানীসহ দেশের শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা।

মানুষ এক প্রকার বন্যার কাছে হারতে শুরু করেছে। এমন সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যায় যেনো ত্রাণের কোনো সঙ্কট না হয়- এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বন্যার পানি থেকে বাঁচতে এসব মানুষ কেউ নিজের বাড়িতে উঁচু মাচা করে, কেউ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে, কেউ বেড়িবাঁধের ওপর, কেউ নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

সরকারি ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২০ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বগুড়া, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, নেত্রকোনা, নওগাঁ ও ফেনী। এসব জেলার ৯০টি উপজেলার ৫৩২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৩টি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৬২ হাজার ৬২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৬ হাজার ২১১ জন, নারী ২৩ হাজার ৩২২ জন, শিশু ১২ হাজার ৯৯৯ জন ও প্রতিবন্ধী ১৮৯ জন।

যে কোনো দুর্যোগে সবার আগে মানবিক বিপর্যয়ের দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। এজন্য বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় অসহায় মানুষ যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় পায়, এ ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও নজর দেয়া উচিত। বন্যা-পরবর্তী সংস্কার ও পুনর্বাসনের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। দুর্গতদের কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার। গত ৫০ বছরে দেশে প্রচুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ তৈরি হয়েছে। তবে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সরকার সাফল্যের পরিচয় দিতে পারছে না- এটা একটা বড় সমস্যা।

সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করতে না পারাই এর মূল কারণ। কাজেই কেবল বাঁধ দিলেই হবে না; একই সঙ্গে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা সঠিক ও দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। আমরা মনে করি, নদীর উৎপত্তি থেকে সমুদ্র পর্যন্ত নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্তকরণ, শাসন এবং বাঁধ নির্মাণসহ সমস্ত ব্যবস্থাপনা যদি আমরা একসঙ্গে সঠিক ও দুর্নীতিমুক্তভাবে করতে পারি; তাহলে বন্যার প্রকোপ হ্রাস পাবে।

-মাসউদুল কাদির

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com