বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন

বর্তমান সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : বর্তমান সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করে না। তাই আমরা দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পেরেছি। দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতিতে আছেন। মাদক নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে, আমরা তাতেও সফল হব।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দীন স্টেডিয়ামে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার এক বছর পূর্তিতে র‍্যাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপার সম্ভাবনাময় সুন্দরবনে দস্যুরা পর্যটকদের জন্য যেমন ভয়ংকর ছিল, তেমনি সাগর ও বনে যারা জীবিকা নির্বাহ করত, তাদের কাছেও ছিল ভয়ংকর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই সুন্দরবন আজ জলদস্যু ও বনদস্যু মুক্ত হয়েছে। শুধু দস্যুমুক্তই নয়, এখন ব্যবসায়ী ও জেলেরা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সুন্দরবনে যাচ্ছেন।

সরকার সুন্দরবনে দস্যু দমনে সফল হয়েছে উল্লেখ আসাদুজ্জামান খান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সাংসদেরা আগে অভিযোগ করতেন তাঁদের এলাকার জেলেদের দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন দস্যুতা নেই। হাজার হাজার পর্যটক সুন্দরবনে নিরাপদে ঘুরতে পারছেন। কিন্তু সুন্দরবনকে যারা আবার অশান্ত করার জন্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দস্যুদের পুনর্বাসনে সরকার সহযোগিতা করছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি ছেড়ে যেসব দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, তাঁদের যাঁরা উসকানি দেন, তাঁদের শুধরাতে হবে। তা না হলে আপনাদের পরিণতিও হবে ভয়াবহ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুল হক, সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে অবদান রাখার জন্য অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ১০ দস্যুর আত্মমর্পণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রক্রিয়া। আত্মসমর্পণ করা মাস্টার বাহিনীর প্রধান মো. মোস্তফা শেখ বলেন, ‘তিন বছরের অধিক সময় হলো সুন্দরবনের দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। দস্যুতার জীবন ছিল অন্ধকারের। অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভালো আছি, ব্যবসা করছি। সুন্দরবনে এখন চাঁদাবাজি, অপহরণ নেই। জেলে বাওয়ালিরা নির্ভয়ে মাছ শিকার করছেন। বলতে পারেন, সুন্দরবনে ৯৯ ভাগ দস্যুমুক্ত।’

মোস্তফা শেখ আরও বলেন, ‘আমি ছেলেবেলায় অন্য দশজনের মতো ভালো থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় এক প্রভাবশালীর চাপে পড়ে সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে ছিলাম। আমরা যারা এই অন্ধকার পথে জড়িয়ে ছিলাম, তাদের সবার গল্প আমারই মতো। সুন্দরবনের দস্যুবৃত্তিতে যে প্রভাবশালীরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com