২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

বস্তি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে বালুখালীর রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসে বালুখালী বস্তিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। কুতুপালং বস্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদাভাবে সরকারি বনভূমি দখল করে গড়ে উঠা এ বস্তিতে পায়ুনিষ্কাশন, সুপেয় পানি সরবরাহ, চিকিৎসা সেবা সর্বোপরী খাদ্য সংকটসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের অনৈতিক আচরণে বালুখালী বস্তি ত্যাগ করে অন্যত্রে আশ্রয়ের সন্ধানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে রোহিঙ্গাদের অভিযোগ।

শনিবার দুপুরে উখিয়া বাস কাউন্টারে গাড়িতে উঠার জন্য অপেক্ষা করছিল প্রায় ৯ সদস্যের দুইটি রোহিঙ্গা পরিবার। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সী রোহিঙ্গা নারী ছকিনা খাতুন জানায়, তারা মংডুর নাইছাদং থেকে পালিয়ে এসে গত দুই মাস ধরে বালুখালী বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু বস্তিতে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার কারণে তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। হাতে যা টাকা পয়সা ছিল, তাও শেষ হয়ে গেছে। কেউ দয়া পরবশ হয়ে বস্তিতে দান, খয়রাত করতে আসলে স্থানীয় বখাটে যুবকেরা টাকাখড়ি, ত্রাণ সামগ্রী যা থাকে তাই কেড়ে নেয়। ফলে বালুখালী বস্তিতে আর কেউ সাহায্য সহযোগীতা করতে আসে না।

৬ মাসের শিশু সন্তান কোলে ছমিরা বেগম (২৮) জানায়, সে দুই মেয়ে নিয়ে মংডুর কিয়ারিপ্রাং গ্রাম থেকে পালিয়ে এসে বালুখালী বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছিল। স্বামীকে মিয়ানমার সেনারা মেরে ফেলেছে। দুই সন্তান নিয়ে খেয়ে, না খেয়ে প্রায় দুই মাস ধরে বালুখালী বস্তিতে এক স্বজনের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিল। সে জানায়, বালুখালী বস্তিতে ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায় না। খাবার পানি, ঔষুধ, খাদ্য সবকিছুর অভাব। কোথায় যাবে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, কক্সবাজারে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। সেখানে ভিক্ষা করে খাব। তবুও ছেলে ২টিকে রক্ষা করতে পারব। তাদের মতো অনেকেই কক্সবাজার সহ বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

এ ব্যাপারে বালুখালী বস্তির ১নং ব্লকের মাঝি মো. খলিল জানায়, প্রতিদিন ৪/৫ পরিবার রোহিঙ্গা টেকনাফের লেদাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালুখালী বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকেই স্বপরিবারে বালুখালী বস্তি ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে।

আশ্রিত রোহিঙ্গারা চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, এখানে ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায় না, চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নেই, খাবার পানি নিয়ে রোহিঙ্গা কষ্ট পাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, স্থানীয় ইউ,পি, সদস্য নুরুল আবছার ও জাহাঙ্গীরের অনুমতি ছাড়া কেউ বস্তিতে আসলে বা বস্তিতে উন্নয়ন কাজ করতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। তাদের ভয়ে বস্তিতে দান খয়রাত করতে কেউ আসে না। যে কারণে এখানকার আশ্রিত রোহিঙ্গারা নানামুখী সমস্যায় রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানান, বালুখালী বস্তিতে উন্নয়ন কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো কাজ না দিলে করার কিছু নেই। উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ উক্ত ইউপি সদস্য অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। তারাই বিভিন্ন স্থানে এসব মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।

আইওএম’র একজন কর্মকর্তা সৈকত বিশ্বাস জানান, বাস্তহারা রোহিঙ্গাদের সেবা প্রদানের জন্য আইওএম বালুখালী বস্তিতে উন্নয়ন কাজ করতে আগ্রহী। তবে কতিপয় এলাকার প্রভাবশালী চক্রের অনৈতিক বাঁধার কারণে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যে কারণে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বালুখালী বস্তি ত্যাগ করে অন্যত্রে চলে যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com