২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

বাজেটে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে : ফখরুল

বাজেটে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে : ফখরুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০২০-২১ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাজেটের বড় অংশ মেগা প্রকল্পগুলোকে দেয়া হয়েছে যেগুলো এরই মধ্যে দুর্নীতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে বাজেট নিয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এ বাজেটে করোনাকালীন সময়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে দিন আনে দিন খায়- এ শ্রেণির মানুষের জন্য এবং বেকারত্ব মোকাবিলায় গঠনমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাজেটে সীমিত আয়ের বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে। করোনায় সাধারণ মানুষের আয়ের ঝুঁকি বাড়লেও সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে বরাদ্দ আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে ০.২ শতাংশ যা মোট বাজেটের ৪.৭ শতাংশ, চলতি বাজেটে যা ছিল ৪.৯ শতাংশ।

তিনি বলেন, পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের জন্য প্রণোদনা দেয়া হবে মাত্র ১০০ কোটি টাকা যা নিতান্তই অপ্রতুল। বাজেটে কিছু প্রণোদনার কথা উল্লেখ করলেও ওইসব আর্থিক প্রণোদনা নিতান্তই ব্যাংক লোন। রুগ্ন ব্যাংকিং খাত এ অর্থ বহন করতে না পারলে প্রস্তাবিত আর্থিক প্রণোদনা মিলবে না। মিললেও সরকার দলীয় কিছু লোকজনই এতে উপকৃত হবে। এ জন্য দরকার ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশেষ তহবিলের যোগান দেয়া। কিন্তু তা করা হলো না।

ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেছেন। অথচ প্রবাসীদের ডেসটিনেশন হিসেবে পরিচিত প্রতিটি দেশই করোনা আক্রান্ত হয়ে মন্দাকবলিত। তাছাড়া কর্মহীন প্রবাসীদের দেশে পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এ বাজেটে। বাজেটে পোশাক খাতের অস্থিরতা কাটানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে গার্মেন্টসগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু এ সময়টুকু টিকে থাকার মতো সাপোর্ট তাদের দিতেই হবে। তা না হলে পোশাক খাত মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে কেবলমাত্র গার্মেন্টস খাতের ওপর ভরসা করলে চলবে না। আমাদের অর্থনীতিকে ডাইভার্সিফাই করতে হবে। কিন্তু সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা প্রস্তাবিত বাজেটে নেই।

তিনি বলেন, এ বাজেটে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। বাজেটের বড় অংশ মেগা প্রকল্পগুলোকে দেয়া হয়েছে যেগুলো এরই মধ্যে দুর্নীতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রকল্পকে বাজেটে আনয়নের প্রয়োজন ছিল না। দুর্নীতির যে ধারা চলমান, সেটাকে অব্যাহত রাখাই এর কারণ বলে আমরা মনে করি। এছাড়া কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ এ বাজেটে দেয়া হয়েছে সেটাও দুর্নীতিকে চলমান রাখার আরেকটি প্রয়াস মাত্র। আবাসন খাতের ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্কে জমি কেনা ও উন্নয়ন, বিল্ডিং, নগদ টাকা, ব্যাংকে রক্ষিত টাকা এবং স্টক ডিভিডেন্ড, বন্ড ও শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে অনৈতিকতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রশ্ন করার বিধানটিও উঠিয়ে দিতে যাচ্ছে যা অসাংবিধানিক এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশে যে আইনই থাকুক না কেন আয়কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করাকে করদাতাদের আয়কর রিটার্নের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

‘কালো টাকা অর্থনীতিরই অংশ বটে, তবে এটি অর্থনীতির মস্তিষ্কে টিউমারের মত। এ টিউমার সরাতে হবে নয়তো রোগী (অর্থনীতি) মারা যাবে’ রোহিনটন মিস্ত্রির এ বাণী অর্থমন্ত্রী অবশ্যই জানেন, তবুও তিনি কালো টাকা সাদা করার দুয়ার খুলে দিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মূলত গত এক দশককালের অধিককাল ব্যাপী সরকারদলীয় যে সব ব্যক্তি নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তাদের টাকা সাদা করার জন্য সরকার এবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। আমরা এহেন অনৈতিক, দুর্নীতি সহায়ক, বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া লক্ষাধিক কোটি টাকার যে খতিয়ান দেশি বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com