মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়ান

বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়ান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: অসময়ে বন্যায় প্লাবিত দেশ, পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা- এ হলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম। অসময়ে বন্যার বিস্তৃতি খুবই আশঙ্কার। জনমানুষ তীব্রতর যাতনার মধ্যে পড়েছে। অসময়ে বন্যার সাধারণত মানুষের কনো প্রস্তুতি থাকে না। উত্তরাঞ্চলে বন্যায় মানুষের বাঁচা মরা দায় হয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা হয়েছে মৌসুমের গোড়ার দিকে, মূলত উজানের ঢলের কারণে।

এখন আবার কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে; অসময়ের বৃষ্টিপাতে। বর্ষা মৌসুমের শেষে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকায় স্বল্পস্থায়ী বন্যার পূর্বাভাস ছিল। সেটিই ঘটছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভারত ফারাক্কা বাঁধের সব গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়ায় পদ্মায় পানি বাড়ছে। দেশের অভ্যন্তরে টানা বৃষ্টিপাতও বন্যা পরিস্থিতির বড় কারণ। কারণ নিয়ে আলোচনা নয়, এখন প্রয়োজন বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যথাসময়ে মানুষের পাশে না দাঁড়াতে পারলে মানুষের ক্ষতি হবে ভয়াবহরূপে। এ থেকে মানুষকে সবার আগে বাঁচানোর চিন্তা করতে হবে। প্রশাসনকে জনসচেনতার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কতা জারি করতে হবে। ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল।

বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় হু হু করছে বেড়েই চলেছে নদীর পানি। এতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ১৩ ও পাংশার সেনগ্রাম গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, টানা বৃষ্টির কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া দেশের প্রায় সব প্রধান নদ-নদীতে পানি বাড়ছে।

৯৩টি নদী-পয়েন্টের ৭৪টিতেই পানি বেড়েছে। চারটি পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও রংপুরের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে, ১২০ মিলিমিটার।

অসময়ের বন্যায় ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। কিছু মানুষ আশ্রয়হীন হয়েছে। এ বন্যা স্বল্পস্থায়ী হবে বলা হলেও এর অভিঘাত যেন বিপত্তিকর না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নজর রাখতে হবে। আমরা মনে করি, সবজি ও শস্যের বাজারেও দৃষ্টি রাখতে হবে। দুর্গত দশায় যারা পড়েছে দ্রুত তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

গ্রন্থনা : মাসউদুল কাদির

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Design & Developed BY ThemesBazar.Com